ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজা গুম হওয়ার পর ১ যুগ পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনো তার কোনো খোঁজ নেই। তার বোন রেহানা পারুল বলেন, ভাই কোথায় তা তারা জানতে চান। এ বিষয়ে গুম কমিশন ও ট্রাইব্যুনাল কেন কিছু বলছে না, তার উত্তর চান তিনি।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত এক মানববন্ধনে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিচার দাবিতে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলো কথা বলে।
গুমের শিকার খালেদ হোসেনের স্ত্রী সৈয়দা শারমিন সুলতানা পরিচয় দিতে গিয়ে দ্বিধায় থাকেন। তার পরিচয় দাঁড়িয়েছে গুম খালেদের স্ত্রী হিসেবে। তিনি বলেন, এক যুগ ধরে ছবি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। প্রধান উপদেষ্টার কাছে গেলাম। গুম কমিশন হলো কিন্তু তারা আমাদের কোনো খবর দেয় না।
সৈয়দা শারমিন সুলতানা আরও বলেন, তিনি চান না তার সন্তান এভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বাবার খোঁজ চাইবে। এই বিচার প্রহসনের। এসব ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের আলাদা করে রাখা হচ্ছে। বৈষম্য থেকেই গেল।
আদিবা ইসলামের ছোট ভাই তার বাবা পারভেজ হোসেনের মুখ দেখেনি। সে জানে না বাবা কেমন, বাবার আদর কেমন। আদিবা বলে, এভাবে দাঁড়াতে দাঁড়াতে তারা ক্লান্ত। তারা বাবাকে ফেরত চায়। ফেরত দিতে না পারলে বিচার চায়, কিন্তু তা হচ্ছে না।
শাহরিয়ার কবির রাতুলের বাবা ও দাদাকে একসঙ্গে গুম করা হয়। তিনি বলেন, বাবার নাম লিখতে গেলে জানেন না কী লিখবেন। বাবা মৃত না জীবিত, তা জানেন না। কী লিখতে হবে, দেশ কি তাকে এই উত্তর দেবে?
গুমের শিকার কাজী ফরহাদের স্বজন আমানুল হক আমান বলেন, স্বাধীন হওয়ার পরও তাদের রাস্তায় দাঁড়াতে হচ্ছে। তারা সংখ্যা জানতে চান না। গুম কমিশন শুধু আয়নাঘর আর যারা ফিরে এসেছেন, তাদের কথা বলছে। কিন্তু যাঁরা ফিরে আসেনি, তাদের কথা বলে না।

মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম বলেন, গুমের শিকার পরিবারগুলোর আওয়াজ আন্তর্জাতিক মহলে পৌঁছাচ্ছে, কিন্তু দেশের সরকারের কাছে যাচ্ছে না। সরকারে এখনো অপশক্তি রয়ে গেছে। সব তথ্য জানাতে এখনো বাধা দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল মালেক বলেন, গত ১৫ বছর কোনো ন্যায়বিচার ছিল না। এই পরিবারগুলো কেন এখনো ন্যায়বিচার পাচ্ছে না?
এআইএল/
