বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকায় মিরপুর কলেজের পেছনের সীমানা প্রাচীর ধসে নাছিমা বেগমের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং অন্তত সাতজন আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক, দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আজ ২৮ জুলাই মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “টিসিবির ন্যায্যমূল্যের পণ্য সংগ্রহের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের ওপর একটি সীমানা প্রাচীর ধসে পড়ার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। নাছিমা বেগমের মৃত্যু রাষ্ট্রের জননিরাপত্তা ব্যবস্থার ভয়াবহ দুর্বলতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। আমি মরহুমার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”
তিনি বলেন, “এটি কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়। অবহেলা, দুর্নীতি, জবাবদিহির অভাব এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর প্রতি উদাসীনতার কারণে দেশে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। এই ব্যর্থতার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।”
ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম বলেন, “নিম্নআয়ের মানুষ যখন টিসিবির পণ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণ হারান, তখন এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা থাকে না; এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার নির্মম প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই অবহেলার সংস্কৃতি দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।”
তিনি অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত, দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা, নিহত নাছিমা বেগমের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পাশাপাশি রাজধানীসহ সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি ভবন, সীমানা প্রাচীর এবং জনসমাগমস্থলের সব ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো জরুরি ভিত্তিতে পরিদর্শন ও সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শেষে ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম বলেন, “মানুষের জীবন রক্ষা করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। অবহেলা ও দায়মুক্তির কারণে আর একটি প্রাণও ঝরে পড়ুক—এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই কঠোর, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”
