গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজনীতি।
শনিবার (২৫ জুলাই, ২০২৬) বিকেলে সিলেটের ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় জোটের সিলেট বিভাগীয় বিশাল সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “জনগণ পরিবর্তনের জন্য, সংস্কারের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলেছে। গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষের এই রায়কে আমরা কোনোভাবেই অপমান করতে দেবো না। ভালোয় ভালোয় গণরায়ের বাস্তবায়ন দেখতে চাই, এ নিয়ে কোনো ধানাই-পানাই শুনতে চাই না।”
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বিএনপি আজ ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পথ ধরেই হাঁটা শুরু করেছে। তারা সর্বস্তরে দলীয়করণ করে দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করার অপচেষ্টা করছে। আমরা হাসিনাকে তাড়িয়েছি; যদি বিএনপিও নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করার চেষ্টা করে, তবে জনগণ তাদেরও একই পরিণতি উপহার দিয়ে তাড়িয়ে দেবে।” সিলেটের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে তিনি সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক রূপ দেওয়া, ৬ লেনের মহাসড়ক নির্মাণ দ্রুত শেষ করা এবং সিলেটের প্রকৌশল কলেজ ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার জোরালো দাবি জানান। একই সঙ্গে পরবর্তী তীব্র আন্দোলনের জন্য জনগণকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিএনপিকে সতর্ক করে বলেন, “জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতার মসনদে বসে এখন সরকার গণভোটে জনগণের রায় ও তরুণদের অবদান ভুলে যেতে চাচ্ছে। তারেক রহমান যদি সংস্কার না করে কেবল সংবিধান সংশোধনের দালালি করেন এবং জুলাই সনদ না মানেন, তবে এই সরকার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেন, “জুলাই বিপ্লবের শহীদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করলে এবং গণভোটে প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে বর্তমান সরকারের ঘাড় ধরে ধাক্কা দিয়ে নামাতে আমাদের বাঁধবে না। গণপরিষদ গঠন করে অবিলম্বে গণরায়ের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করুন।”
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে বলেন, “আপনাকে পুরো বাংলাদেশের মানুষের প্রধানমন্ত্রী হতে হবে, কোনো দলের চাটুকারদের নয়। দালাল ও চাটুকারদের পরামর্শে না চলে নিজের বিবেক দিয়ে বিবেচনা করুন এবং সংস্কারগুলো সংসদে পাস করার ব্যবস্থা নিন। আমাদের রাজপথের এক দফার ধাক্কা সামলাতে যাবেন না।”
এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. ইরান, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী এবং বিডিপির চেয়ারম্যান এডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চানসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা সমাবেশে বক্তব্য দেন। বক্তারা একসুরে বলেন, বর্তমান সরকার যদি অবিলম্বে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে, তবে ঢাকা ঘেরাওসহ সরকার পতনের একদফা কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে ১১ দলীয় জোট। টিএইচএ/
