বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের জারিকৃত সাম্প্রতিক সার্কুলারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, আগামী ৯ আগস্ট ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’ উপলক্ষে দেশের সব আলিয়া মাদ্রাসাকে দাখিল (৬ষ্ঠ-১০ম) শ্রেণি থেকে একজন ছাত্র ও একজন ছাত্রী এবং আলিম (১ম ও ২য় বর্ষ) থেকে একজন ছাত্র ও একজন ছাত্রী নিয়ে পৃথক ফুটবল দল গঠন করে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে বোর্ডে তালিকা পাঠানোর নির্দেশনা ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার স্বকীয়তা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) এক বিবৃতিতে এসব বলেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের আলিয়া মাদ্রাসাগুলো ইসলামী আদর্শ, শরয়ী বিধান ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। সেই বাস্তবতা উপেক্ষা করে এ ধরনের নির্দেশনা জারি করা মুসলিম জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার শামিল। খেলাধুলার নামে মাদ্রাসার স্বাতন্ত্র্য নষ্ট এবং ইসলামী পরিবেশে অযাচিত হস্তক্ষেপের কোনো অপচেষ্টা দেশের ঈমানদার জনগণ মেনে নেবে না।
মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের অভ্যন্তরে একটি সুসংগঠিত ইসলামবিরোধী চক্র অবস্থান করছে। তারা পরিকল্পিতভাবে ইসলাম, ইসলামী শিক্ষা ও মুসলমানদের ধর্মীয় মূল্যবোধের বিরুদ্ধে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাকশালের পতন হয়েছে, স্বৈরাচারের পতন হয়েছে, ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে; কিন্তু প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান নেওয়া এই ইসলামবিরোধী চক্রের পতন হয়নি। রাষ্ট্রক্ষমতার পালাবদল হলেও তারা বহাল থেকে ইসলামবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারকদের উচিত প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এসব ইসলামবিরোধী উপাদানকে চিহ্নিত করে অপসারণ করা। অন্যথায় তাদের উসকানিতে গৃহীত একের পর এক সিদ্ধান্ত জনগণ ও সরকারের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত সৃষ্টি করবে, যার দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।
তিনি অবিলম্বে উক্ত সার্কুলার প্রত্যাহার, মাদ্রাসাগুলোর ওপর এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের চাপ বন্ধ এবং ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার স্বকীয়তা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
