বিশেষ প্রতিবেদক:: জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটে টানাপোড়েন এখন প্রকাশ্যে। জোটে ক্রমাগত অবমূল্যায়ন ও আসন বণ্টনে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে জোট ত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে খেলাফত মজলিস (মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ ও ড. আহমদ আবদুল কাদের অংশ)। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও তৃণমূলের চাপের মুখে অবশেষে নিজস্ব রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম শক্তিশালী করার দিকেই নজর দিচ্ছে দলটি।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) ‘৩৬ নিউজ’-এর সঙ্গে আলাপকালে দলটির নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী জোট ছাড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন।
তিনি জানান, জামায়াতের সঙ্গে তাদের ঐক্যের ভিত্তি স্থায়ী কোনো জোট ছিল না, বরং তা ছিল একটি নির্বাচনী সমঝোতা। কাসেমী বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী আন্দোলন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আমরা একসাথে মাঠে ছিলাম। কিন্তু বর্তমানে খেলাফত মজলিস মনে করে, নিজস্ব দলীয় ভিত্তি সুদৃঢ় করা ও দলীয় ব্যানারে কাজ করাটাই বেশি জরুরি। এই পরিস্থিতিতে জামায়াতের সাথে আগের মতো পথচলা হয়তো আর সম্ভব হবে না।’
বিভাগীয় সমাবেশ বর্জন ও ঢাকার বৈঠক
দুই রাজনৈতিক শক্তির মাঝে তৈরি হওয়া ফাটল এখন কর্মসূচিতেও স্পষ্ট। রংপুরের পর এবার জামায়াতের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশও বর্জন করছে খেলাফত মজলিস।
শনিবার (২৫ জুলাই) সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে যখন জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় সমাবেশের ঢাকঢোল বাজবে, ঠিক তখনই ঢাকায় দলীয় কার্যালয়ে বসছে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় শূরা কমিটির নীতি-নির্ধারণী বৈঠক।
সিলেট জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ঢাকার শূরা বৈঠকের কারণেই তারা সিলেটের আয়োজনে থাকছেন না।
এদিকে সিলেটের সমাবেশের ব্যানার-পোস্টারে খেলাফত মজলিসের কোনো নেতার নাম বা ছবি না রাখা দূরত্ব বাড়ার প্রমাণ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দাবি করেছেন, খেলাফত মজলিস জোট ছাড়ছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা তারা পাননি।
কেন এই দূরত্ব?
খেলাফত মজলিস নেতাদের অসন্তোষের মূল কারণ—জোটের অভ্যন্তরীণ বৈষম্য। বিশেষ করে আসন বণ্টনে বৈষম্য এবং একটি নির্দিষ্ট দলকে অতিরিক্ত অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ তাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির এক কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নির্বাচনের শুরু থেকেই আমাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হক ও তাঁর দলকে তোষণ করতে গিয়ে আমাদের সাংগঠনিক অবস্থান উপেক্ষা করা হয়েছে। ঐক্যের খাতিরে নির্বাচনের সময় মেনে নিলেও এখন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের চাপে জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া ছাড়া পথ নেই।’
‘জোট নয়, ছিল সমঝোতা’
অবশ্য বিষয়টি ভিন্ন আলোয় দেখছেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী। তাঁর মতে, জামায়াতসহ শরীকদের সঙ্গে তাঁদের কেবল ‘নির্বাচনী সমঝোতা’ ছিল, কোনো আনুষ্ঠানিক ‘রাজনৈতিক জোট’ গঠিত হয়নি। ফলে জোট ত্যাগের চেয়ে বরং নির্বাচনী সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়াই এতে মুখ্য হয়ে উঠেছে।
ঢাকার কেন্দ্রীয় শূরা বৈঠকের পরই পরিষ্কার হবে খেলাফত মজলিস জামায়াতবলয় থেকে বের হয়ে একা পথ চলবে, নাকি নতুন কোনো ইসলামী মেরুকরণের সূচনা করবে।
