‘জুলাই অভ্যুত্থানের দিনগুলোই ইসলামী আন্দোলনের ভূমিকার জ্বলন্ত সাক্ষী’: চরমোনাই পীর

by Abid vs36

জুলাই অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দিনগুলোই রাজপথে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকার সবচেয়ে বড় জ্বলন্ত সাক্ষী বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সবসময় ইসলাম, দেশ ও জনগণের কল্যাণে কথা ও কাজের মিল রেখে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছে।

শনিবার (২৫ জুলাই, ২০২৬) রাজধানীর গুলিস্তানস্থ কাজী বশির মিলনায়তনে (মহানগর নাট্যমঞ্চ) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত ‘নগর সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহমদ আবদুল কাইয়ূম।

বিজ্ঞাপন
banner

চরমোনাই পীর তার বক্তব্যে বলেন, দেশে শতাধিক নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল থাকলেও জাতীয় সংকট ও দুর্দিনে খুব কম দলই প্রকৃত দেশপ্রেমের প্রমাণ দিতে পেরেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও জুলাই অভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে অনেকেই যখন পিছু হটেছিলেন বা দৃশ্যপটে ছিলেন না, তখন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা-কর্মীরা নিজেদের দলীয় দায়িত্ববোধ থেকে শুরু থেকেই ছাত্র-জনতার পাশে সক্রিয়ভাবে মাঠে ছিলেন।

স্বাধীনতার পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বিগত ৫০ বছরে যারা দেশ শাসন করেছেন, তারা দেশে কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। শাসকশ্রেণীর অদক্ষতা ও সীমাহীন দুর্নীতির কারণে বিশ্বদরবারে বারবার দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। দেশের জনগণ এখন আর কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাবাধীন কিংবা লুটেরাদের শাসন দেখতে চায় না; তারা কোরআনের ন্যায়ভিত্তিক শাসন চায়।

সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ থেকে এক ভয়াবহ স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছে। এই ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের শিক্ষা যদি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলো গ্রহণ না করে, তবে ভবিষ্যতেও তাদের একই ধরনের করুণ পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে। তিনি বিএনপিকে ইঙ্গিত করে অভিযোগ করেন যে, জনগণের দাবি ও গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে দলটি স্বৈরাচারী আচরণের দিকেই ধাবিত হচ্ছে। এ সময় তিনি অবিলম্বে ‘জুলাই সনদ’-এর আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা, সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন এবং দ্রুত উচ্চকক্ষ বা প্রস্তাবিত পরিষদ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) মাওলানা আরিফুল ইসলামসহ কেন্দ্র ও মহানগর দক্ষিণের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নতুন কমিটি ঘোষণা: সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর ২০২৬-২০২৭ সেশনের জন্য ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন। এতে শেখ ফজলুল করীম মারুফ-কে সভাপতি এবং কে এম শরীয়াতুল্লাহ-কে সাধারণ সম্পাদক (সেক্রেটারি) মনোনীত করা হয়। এছাড়া জিএম রুহুল আমীন, আনোয়ার হোসেন, এমএইচ মোস্তফা, আব্দুল আউয়াল মজুমদার ও মাওলানা আব্দুর রাজ্জাককে সহ-সভাপতি করে মহানগর দক্ষিণের নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত করা হয়।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222