শাপলা হত্যাকাণ্ড: সোমবার অভিযোগপত্র, আসামির তালিকায় হাসিনাসহ ৪১ জন

by Abid vs36

দীর্ঘ এক যুগ পর ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের অবস্থান কর্মসূচিতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে হতাহতের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক ঐতিহাসিক মোড় দেখা দিয়েছে। আগামী সোমবার (২৭ জুলাই, ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (ICT) বহুল আলোচিত এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) দাখিল করতে যাচ্ছে প্রসিকিউশন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার দাবি, ঘটনাটি কেবল এক রাতের অভিযান ছিল না; বরং এটি ছিল এক পরিকল্পিত মানবতাবিরোধী অপরাধ বা ‘সিস্টেমেটিক ক্রাইম’। তদন্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা ও গুমের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ ও আলামত পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন
banner

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১ এ আনুষ্ঠানিকভাবে ফরমাল চার্জ পেশের মাধ্যমেই মামলার পূর্ণাঙ্গ আসামি তালিকা জনসমক্ষে আসবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা, যেখানে একজন সাবেক সরকারপ্রধান, একাধিক মন্ত্রী, শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা এবং তৎকালীন সেনা, পুলিশ ও বিজিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের আসামি করা হচ্ছে। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, চার্জশিটে শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, এ কে এম শহীদুল হক, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এবং র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পরোয়ানার ভিত্তিতে এরই মধ্যে সাবেক ডিআইজি মোল্লা নজরুল ইসলাম এবং আবদুল জলিল মণ্ডলসহ কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তৎকালীন সময়ের অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব—যেমন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন এবং সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধেও অপরাধে উসকানি ও সহযোগিতার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।

প্রসঙ্গক্রমে, মামলার নিহতের সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশার জট খুলতে শুরু করেছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত এবং হেফাজতে ইসলামের প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী ইতোমধ্যে ৯৩ জন নিহতের নাম-ঠিকানা পাওয়া গেছে। তবে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক দাবি করেছেন, সেদিন মধ্যরাতে লাশ গুম করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, ফলে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি।

অন্যদিকে, এই মামলায় মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার মতো সাংবাদিকদের আসামি করা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম স্পষ্ট করে জানান, এটি একটি ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’ বা যৌথ অপরাধী চক্র। শাপলা চত্বরের রক্তক্ষয়ী ঘটনা ও গণহত্যা গোপন করতে এবং ইন্টারনেট বন্ধ করে দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি বন্ধের মাধ্যমে অপতথ্য ছড়াতে নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যমকর্মী ভূমিকা রেখেছিলেন। পেশা দিয়ে অপরাধ ঢাকা যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধের ধামাচাপা দেওয়া ও ফ্যাসিস্ট শক্তিকে রক্ষা করাও মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার থেকেই সুনির্দিষ্ট ও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে শাপলা চত্বর ট্র্যাজেডির বহুল প্রতীক্ষিত বিচার পর্ব।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222