৩৬নিউজ ডেস্ক: মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তিনি তার স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা বিকেল ৫টা ১ মিনিটে স্পিকার কর্তৃক গৃহীত হয়।
বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে, পদত্যাগের দিনে রাষ্ট্রপতির দুপুরের খাবারের মেন্যুতে ছিল সাধারণ ও ঘরোয়া খাবার—ভাত, ডাল, মাছ, মাংস, সবজি এবং শাক। পরিবারের ১০ থেকে ১২ জন সদস্যের জন্য এই খাবার প্রস্তুত করা হয়েছিল বলে জানান বঙ্গভবনের স্টাফেরা।
শনিবার (২৫ জুলাই) সরেজমিনে বঙ্গভবন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নিরাপত্তার মধ্যেও রাষ্ট্রপতির বিদায়োত্তর আনুষঙ্গিক কার্যক্রম ও চলাচল লক্ষ্য করা গেছে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে প্রধান ফটক দিয়ে কয়েকটি প্রাইভেটকার এবং সশস্ত্র বাহিনীর গাড়ি প্রবেশ ও বের হতে দেখা যায়। রাজউক ভবনের গেট সংলগ্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী অবস্থান করলেও আশপাশের সড়কে পথচারী চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী বিদায় সংবর্ধনা জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করা মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও স্বাস্থ্যগত জটিলতা—বিশেষ করে ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানিয়ে পদত্যাগ করেন।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সংবিধানের বিধান অনুসারে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মূল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, প্রায় তিন বছরের শাসনামলে মো. সাহাবুদ্দিন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অত্যন্ত ঘটনাবহুল সময়ের সাক্ষী ছিলেন। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন—সব মিলিয়ে তার মেয়াদের এই সময়ে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করানোর এক বিরল ও ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতার জন্ম হয়। টিএইচএ/
