সিজেপির (CJP) আন্দোলনের সব দাবি কেন্দ্র সরকার মেনে নেওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। শিক্ষার্থীদের ওপর কথিত ‘পেলেট গান’ এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ এনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি দায়ী করেছেন তিনি।
শনিবার (২৫ জুলাই, ২০২৬) এক দিনে নিজের দ্বিতীয় সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, সরকার দাবি মেনে নেওয়াটা এই গভীর শিক্ষা সংকটের কেবল একটি প্রাথমিক ধাপ। পুরো ঘটনাটি দেশের শিক্ষার্থী ও বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে মোদি সরকারের জন্য একটি স্পষ্ট ‘সতর্কবার্তা’।
সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, “এটি শিক্ষার্থী এবং বিরোধীদের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি শেষ সতর্কবার্তা। যেভাবে আপনারা দেশ চালাচ্ছেন, সেভাবে আর চালানো যাবে না। দেশটা কারো ব্যক্তিগত জমিদারি নয়।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে তিনি যোগ করেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত সহিংসতার জন্য আমরা সরাসরি অমিত শাহকে দায়ী করছি। তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানো, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার এবং পেলেট গান চালানোর অনুমোদন দিয়েছেন। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভারতের ভবিষ্যতের ওপর গুলি চালাবে—তা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। আসন্ন সংসদ অধিবেশনে এটি অত্যন্ত বড় ইস্যু হতে যাচ্ছে।”
বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তাকে “দুর্নীতি, অক্ষমতা এবং শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের প্রতীক” হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “ভাল যে এই ধরনের প্রতীক অপসারিত হয়েছে। তবে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত সংস্কার করতে হলে সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর যারা নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে তাদের কঠোর শাস্তি হতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দেশের সকল শিক্ষার্থীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।”
উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ও জেপি নাড্ডা এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিদের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলন প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। সরকার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার, নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ সিজেপির উত্থাপিত সকল দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে নেওয়ার পর ছাত্র সংগঠনটি তাদের কর্মসূচি স্থগিত করে।
টিএইচএ/
