নিজস্ব প্রতিবেদক :: টানা বর্ষণ ও দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বন্যার প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। এর ফলে বিভিন্ন পণ্যের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ঊর্ধ্বগতিতে রয়েছে কাঁচামরিচের বাজার। কয়েক দিনের ব্যবধানে এর দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির সরবরাহ বেড়েছে। তবে বর্তমানে করলা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, কচু ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ঝিঙে ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা এবং টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। এছাড়া একটি লাউ কিনতে গুনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা।
তবে সবজির বাজারে সবচেয়ে ব্যতিক্রম কাঁচামরিচ। সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এর দাম কেজিতে ১০০ টাকারও বেশি বেড়েছে। বর্তমানে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে একই মরিচের দাম ছিল ২০০ থেকে ২৪০ টাকা।
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা শফিউল আলম বলেন, ‘আগের তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে। তবে কাঁচামরিচের সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি বাজারেই দাম বেশি, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।’
সবজির দাম নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন ক্রেতারা। বাজার করতে আসা শাহবাজ খানম বলেন, ‘সবজির কিছুটা ইতিবাচক হলেও কাঁচামরিচের অস্বাভাবিক দাম পুরো বাজারের হিসাব এলোমেলো করে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের জন্য ৪০০ টাকা কেজি দরে মরিচ কেনা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’
মরিচের ঝাঁজে যখন অস্থির বাজার, তখন ডিমের বাজারেও আবার ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। লাল ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি। সাদা ডিমের দাম বেড়ে হয়েছে প্রতি ডজন ১৩০ টাকা। কয়েকটি বাজারে ফার্মের মুরগির ডিম ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকা ডজনেও বিক্রি হচ্ছে।
ডিম বিক্রেতা হাজী রফিজ বলেন, ‘পাইকারি বাজার থেকেই ডিমের দাম বেড়ে এসেছে। ফলে খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম আবার কমতে পারে।’
মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। অধিকাংশ মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গরিবের মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙাশের দাম এখন ২০০ টাকার সীমা ছাড়িয়েছে। বর্তমানে জীবিত পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে।
এ ছাড়া রুই মাছের দাম আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে কেজিপ্রতি এক হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।
মাছ কিনতে আসা আদর রহমান নামের এক ক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, ‘মাছের দাম নাগালের বাইরে। প্রতিটি মাছের দামই বেড়েছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্তরা খুব কষ্টে আছে।’
অন্যদিকে মাংস ও মুরগির বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে। খাসির মাংসের দাম রয়েছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকা কেজি দরে।
