ব্যারিস্টার সুমনের বন্দিত্ব নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে উদ্বেগ

by Masudul Kadir

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সাবেক সংসদ সদস্য ও ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের কারাবন্দি অবস্থা এবং বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এবার অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পার্লামেন্টে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পার্লামেন্টে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন পার্কেস আসনের এমপি ও শ্যাডো মিনিস্টার জেমি চ্যাফি।

বিজ্ঞাপন
banner

এর আগে দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডাব্লিউ) স্টেটের পার্লামেন্টেও তার বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সুমনের আইনজীবী লিটন আহমেদ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সুমনের মামলার সবশেষ অবস্থা ও অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে তাকে নিয়ে আলোচনার বিষয়টি জানান এই আইনজীবী।

লিটন আহমেদ বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্বেগের বিষয়টি এর আগে নিউ সাউথ ওয়েলস স্টেটের সিনেট উচ্চকক্ষে উত্থাপন করা হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পার্লামেন্টের এক শ্যাডো মিনিস্টার আবারও বাংলাদেশের মানবাধিকার, বিশেষ করে ব্যারিস্টার সুমনসহ অন্যান্য রাজনীতিবিদদের আটক থাকার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।’

অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে দেওয়া ওই আইনপ্রণেতার বক্তব্যের বরাত দিয়ে লিটন আহমেদ বলেন, ‘সারা পৃথিবীর মত অস্ট্রেলিয়াও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সোচ্চার। বাংলাদেশসহ সব জায়গায় মানবাধিকার যেন অক্ষুণ্ন থাকে, সে বিষয়ে তারা ক্যাম্পেইন অব্যাহত রাখবে।’

পার্লামেন্টে তিনি ব্যারিস্টার সুমনসহ আটক রাজনীতিবিদদের খাদ্য, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার বিষয়টি উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সাথে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে তারা যেন প্রচলিত আইন ও সংবিধান অনুযায়ী সুষ্ঠু বিচার পায়, সে আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পার্লামেন্টে ডাব্বো এলাকার জনপ্রতিনিধি ডেপুটি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে সেখানে আলো ফেলা ভালো মানুষ হিসেবে আমাদের ভূমিকার অংশ, এমনকি তা যদি আমাদের নিজেদের দেশে নাও হয়। আজ আমি ব্যারিস্টার শাদাত হক সুমনের মামলার বিষয়ে আমার উদ্বেগ প্রকাশ করছি, যিনি বাংলাদেশে হেফাজতে রয়েছেন।’

ডাব্বো এবং পুরো অস্ট্রেলিয়া জুড়ে থাকা বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি তার কাছে উত্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে জানানো হয়েছে যে জনাব সুমন দুর্নীতি, অন্যায় এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে একটি বিশিষ্ট কণ্ঠস্বর ছিলেন। তিনি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করেছেন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি একাধিক অভিযোগের মুখোমুখি হচ্ছেন, যা আমাকে জানানো হয়েছে যে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

হেফাজতে থাকা অবস্থায় ব্যারিস্টার সুমন ও অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সাথে কেমন আচরণ করা হচ্ছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘নির্যাতন, চরম অপুষ্টি এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে হেফাজতে মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ব্যারিস্টার সুমনের অনেক সমর্থক তার এবং তার পরিবারের জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যারা বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।’

অস্ট্রেলিয়া মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলে উল্লেখ করে এই আইনপ্রণেতা বলেন, ‘আমি জানতে চাই যে এই সমস্ত রিপোর্টেড মামলার ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন এবং পরবর্তীতে আর কী কী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার সুমনের মামলার বর্তমান অবস্থার কথা তুলে ধরেন তার আইনজীবী লিটন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত আটটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর থেকে তিনি কারাগারে আটক আছেন।’

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটি মামলার বিষয়ে দায়রা জজসহ হাই কোর্টে আমরা জামিনের আবেদন করেছিলাম। ইতিমধ্যে প্রত্যেকটি মামলার শুনানি হয়েছে। চারটিতে হাইকোর্ট ডিভিশন থেকে জামিন দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে দুটি মামলায় চেম্বার জজ আদালত স্থগিতাদেশ (স্টে) দিয়েছে। বাকিগুলো রুল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। আমরা প্রত্যাশা করি, অচিরেই এই রুলগুলো নিষ্পত্তি হবে।’

এর আগেও গত ৩ জুন অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডাব্লিউ) পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে করা মামলা ও তার বন্দিদশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন পার্লামেন্ট সদস্য স্টিভেন লরেন্স।

সেদিন পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ডাব্বোতে বসবাসরত বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান সম্প্রদায়ের সদস্যরা বাংলাদেশের একটি ফৌজদারি মামলার বিষয়ে আমার কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এটি বাংলাদেশের একজন সাবেক সংসদ সদস্য ও ব্যারিস্টারকে কেন্দ্র করে, যিনি সৈয়দ আবু হক সুমন নামে পরিচিত।

তিনি বলেন, সম্প্রদায়ের সদস্যদের কাছ থেকে জেনেছি, এই ব্যক্তি সততার কারণে বাংলাদেশে অত্যন্ত সম্মানিত। তিনি দুর্নীতি ও অবিচারের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন।

রাজনৈতিক সক্রিয়তার কারণেই সুমনকে গ্রেফতার করা হয়েছে দাবি করে স্টিভেন লরেন্স বলেছিলেন, ‘খবর অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে অসংখ্য মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন। তার জামিনের আবেদনগুলো নাকচ করা হয়েছিল এবং তিনি দীর্ঘ সময় ধরে হেফাজতে রয়েছেন।’

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222