যৌতুকের অভিযোগের পর জুলাই বিতর্কেও পুলিশ কর্মকর্তা আরিফ

by hsnalmahmud@gmail.com

বিশেষ প্রতিবেদক:: জয়পুরহাট সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (৩৪তম বিসিএস) মো. আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি, একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, মাদকসেবন ও মারাত্মক শারীরিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তাঁর স্ত্রী শামিয়া খান এশা। একই সঙ্গে এই পুলিশ কর্মকর্তার ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক পরিচয় ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি পোস্ট ঘিরেও তোলপাড় শুরু হয়েছে।

স্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলন

বিজ্ঞাপন
banner

রবিবার (২৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান আরিফ হোসেনের স্ত্রী শামিয়া খান এশা।

সংবাদ সম্মেলনে এশা জানান, ২০১৯ সালের ১৯ জুলাই আরিফ হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় উপহার হিসেবে প্রায় ২০ লাখ টাকার আসবাবপত্র এবং ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যমানের স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য সামগ্রী দেওয়া হয়। ২০২০ সালে তাঁদের ঘরে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়, যার বর্তমান বয়স সাড়ে পাঁচ বছর।

এশার অভিযোগ, বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই আরিফ নিয়মিত মদ্যপান ও মাদকসেবন শুরু করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রতিবাদ করলে তাঁর ওপর নামিয়ে আনা হতো নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এশা দাবি করেন, সংসার টিকিয়ে রাখতে তাঁর পরিবার জমি বিক্রি করে আরিফকে নগদ অর্থ ও ব্যাংক চেকের মাধ্যমে ৪০ লাখ টাকা যৌতুক দেয়। সেই টাকা দিয়ে আরিফ একটি প্রিমিও গাড়ি কেনাসহ বিলাসবহুল জীবনযাপন শুরু করেন।

পরবর্তীতে আরও ৫০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন বাড়াতে থাকেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। গত ৯ জানুয়ারি গভীর রাতে জয়পুরহাটের বাসায় এশা ও তাঁর শিশুকন্যাকে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হলে তাঁরা স্থানীয় সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সর্বশেষ গত ৩০ মে ঢাকার বসিলার একটি বাসায় মদ্যপ অবস্থায় এক নারীর সঙ্গে আরিফকে দেখে প্রতিবাদ জানালে এশার মাথায় মোবাইল ফোন দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়।

এ ঘটনায় এশা পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এবং জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি গত ৫ জুলাই ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা (সি আর মামলা নং-৬৯৬/২০২৬) দায়ের করেন। মামলার তথ্যপ্রমাণ হিসেবে নির্যাতনের ছবি, ভিডিও ও মাদকসেবনের অডিও-ভিডিও রেকর্ড আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

এশার দাবি, আদালতে মামলা করায় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আরিফ গত ৯ জুলাই জয়পুরহাট সদর থানায় এশা ও তাঁর মা-বাবার বিরুদ্ধে পাল্টা মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করছেন। বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কথা জানিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে পদ থেকে প্রত্যাহার বা ক্লোজড করে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফের বিরুদ্ধে মাদকগ্রহণ ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ স্ত্রীর

রোববার (২৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী এশা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট ও বিতর্ক

অন্যদিকে, এই সংবাদ সম্মেলনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আব্দুর রব ভূট্টো (Abdur Rab Bhuttow) নামের এক ব্যক্তি তার ফেসবুক আইডিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ হোসেনের ছবিসহ একটি পোস্ট করেন।

পোস্টটিতে তিনি লিখেছেন, ‘অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন, আছেন জয়পুরহাটে। ছাত্র জীবনে ছিলেন ছাত্রলীগের দুর্ধর্ষ ক্যাডার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই সময়ের ত্রাস ছিলেন মহারাজ। জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের কটাক্ষ করে তিনি তার ফেসবুক আইডি থেকে লিখে ছিলেন, ‘রাজাকারেরা যদি কোনো দিন ক্ষমতায় আসে পুলিশের চাকুরি ছেড়ে আবার ছাত্রলীগে যোগ দিব’। আজ দেখলাম এই মহারাজের চরিত্র নিয়ে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। একাধিক বিয়ে পরকিয়া প্রেমসহ বহু অভিযোগ। আচ্ছা এই ধরনের অফিসার কি পুলিশে খুব বেশী প্রয়োজন??’

তবে উক্ত ফেসবুক পোস্টে উল্লেখিত ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক ক্যাডার পরিচয় কিংবা জুলাই আন্দোলনকালীন মন্তব্যের বিষয়ে এখনো স্বাধীন বা দাপ্তরিক কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন তাঁর স্ত্রীর উত্থাপিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং পাল্টা দাবি করেন যে তাঁর স্ত্রী পূর্বের বিয়ের তথ্য গোপন করে প্রতারণা করেছিলেন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222