লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি মাদ্রাসায় পড়তে আসা শিশু শিক্ষার্থীর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র তোলপাড় ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শুধু নির্যাতনই নয়, নির্মম সেই দৃশ্য নিজের মুঠোফোনে ধারণ করে অভিযুক্ত শিক্ষক তা ফেসবুকে পোস্ট করেন এবং ক্যাপশনে লেখেন—‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে’। ঘটনাটি প্রায় ৫-৬ মাস আগের হলেও গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভিডিওটি জনসমক্ষে এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম ইমরান হোসেন। তিনি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা এবং রায়পুরের উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের হায়দরগঞ্জ বাজারের বাংলাবাজার এলাকার একটি মাদ্রাসার সাবেক সহকারী শিক্ষক। ভিডিওটিতে দেখা গেছে, কান্নারত এক শিশু শিক্ষার্থীর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আতঙ্কে ও যন্ত্রণায় শিশুটির কান্না আরও বেড়ে গেলেও শিক্ষক ইমরান হোসেন থামেননি। সমালোচনার মুখে পড়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শনিবার সন্ধ্যায় (১৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সবার কাছে ক্ষমা চান। ভিডিওটি তিনি নিজেই শখের বশে পোস্ট করেছিলেন বলে স্বীকার করেন।
লাইভ বার্তায় ইমরান হোসেন বলেন, “ভিডিওটি আমিই ধারণ করেছি এবং প্রকাশ করেছি। ছোট বাবুটি আমার কাছে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। আমি তাকে কিছু প্রশ্ন করি। উত্তর দিতে না পেরে সে কান্না শুরু করে। আমি তার কান্না থামানোর জন্য দুষ্টামি করে মুখে বেত ধরেছিলাম। আমি তাকে বেত্রাঘাত করিনি বা ধমকও দিইনি। বিষয়টি এভাবে দেখা হবে, আমি ভাবিনি। আমার ভুল হয়েছে। আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রায়পুরের হায়দরগঞ্জ টিআরএম কামিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মঞ্জুর আহমেদ। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককেও প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস আগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, “ইমরান একজন টিকটকার ছিলেন। শুরু থেকেই তার আচরণে নানা অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। শিশুশিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, অকারণে শাস্তি প্রদান এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়। চাকরি হারানোর পর ক্ষোভ থেকে সে পূর্বে ধারণ করা এই ভিডিও প্রকাশ করেছে।”
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পরপরই খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অনেক আগেই বরখাস্ত করেছে এবং বর্তমানে তিনি রায়পুর এলাকায় নেই। এই পাশবিক ও অমানবিক ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের সদস্যদের ডেকে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।”
টিএইচএ/
