সৌদি আরবের নেতৃত্বে নতুন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ

by Masudul Kadir

কূটনৈতিক প্রতিবেদক :: নতুন উচ্চতায় বলা যায় বাংলাদেশ। তারেক রহমানের যুগে নতুন এক মেরুকরণের ধাপে এগিয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে থাকছে বাংলাদেশ।

বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে নতুন একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সমুদ্রপথ সুরক্ষায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন এ জোটে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, যৌথ সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামে নতুন এ জোট গঠন করা হয়েছে।

জোটভুক্ত দেশগুলো জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ এ সমুদ্রপথে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন নিরাপদ রাখাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সম্প্রতি উত্তেজনা অনেক বেড়েছে। বিশ্বের তেল ও গ্যাস রপ্তানির একটি বড় অংশ আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হলেও সেখানে চলমান অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করছে।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের হামলায় বাব আল-মান্দেব, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের নৌপথও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সৌদি আরব জানিয়েছে, জোট গঠনের বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল।

লোহিত সাগরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘অ্যাসপিডিস’ নামে একটি নৌ-নিরাপত্তা মিশন আগে থেকেই চালু রয়েছে। ফলে সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন এ জোটের কার্যক্রম ওই মিশন থেকে কীভাবে পৃথক হবে, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।

সৌদি আরব ছাড়া জোটের অন্য সদস্য দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস।

একই ধরনের নিরাপত্তা স্বার্থ থাকা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এখনো এ জোটে যোগ দেয়নি।

তবে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় জাতীয় আইনি বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর যেকোনো দেশের জন্য এ জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ খোলা থাকবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অংশগ্রহণকারী দেশগুলো বিশ্বাস করে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষা একটি যৌথ দায়িত্ব। আন্তঃদেশীয় সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

নতুন এ জোটে কোন দেশ কতটি যুদ্ধজাহাজ বা বিমান পাঠাবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ পরিকল্পনা প্রণয়ন, সমন্বিত মহড়া এবং সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সৌদি আরব জোর দিয়ে বলেছে, জোটটির উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে এটি গঠন করা হয়নি।

জোটটির সদর দপ্তর সৌদি আরবে স্থাপন করা হবে। তবে সদর দপ্তরের সুনির্দিষ্ট স্থান প্রকাশ করা হয়নি।

গত সপ্তাহে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয়। এর ফলে লোহিত সাগরমুখী তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। তবে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের সাহায্যে পূর্বাঞ্চলের তেল শোধনাগার থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহন অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয় সৌদি আরব।

তবে সেই তেলের বড় একটি অংশ রপ্তানির জন্য বাব আল-মান্দেব প্রণালি অতিক্রম করতে হয়। ইরিত্রিয়া, জিবুতি ও ইয়েমেনের মাঝখানে অবস্থিত এ সংকীর্ণ জলপথের ইয়েমেন অংশটি হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঝুঁকি রয়ে গেছে।

বর্তমানে বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল এ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

মাত্র ২৯ কিলোমিটার প্রশস্ত এ জলপথে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির বড় চাপ তৈরি হতে পারে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222