৭৪ বছরে পদার্পণ করলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

by Abid vs36

মো. রেজওয়ান (রাবি প্রতিনিধি): গৌরব, ঐতিহ্য ও সাফল্যের ৭৩ বছর অতিক্রম করে ৭৪ বছরে পদার্পণ করেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। এই দিনকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা করছেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আয়োজন এবং একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া শুভেচ্ছা বার্তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম রাবির সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার এক অনন্য কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করাই বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন
banner

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দীর্ঘ যাত্রার অর্জনের পেছনে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অনবদ্য অবদান রয়েছে বলে জানান উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ। তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে শিক্ষা, গবেষণা এবং গণতান্ত্রিক চর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আরও সমৃদ্ধ হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্য দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ইট-পাথর দেশের নানা ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণ-আন্দোলন এবং সর্বশেষ জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত প্রতিটি প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। ভবিষ্যতেও দেশ গঠনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় একইভাবে নেতৃত্ব দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে কিছুটা হতাশার সুরও লক্ষ্য করা গেছে। মতিহার হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য ইসমাইল হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবার জন্য গর্ব ও আনন্দের উপলক্ষ হলেও এবার সেই উৎসবের আমেজ ক্যাম্পাসে তেমন চোখে পড়ছে না। তাঁর ভাষ্য, ক্যাম্পাসে দৃশ্যমান কোনো সাজসজ্জা নেই এবং উৎসবমুখর পরিবেশও তৈরি হয়নি। এমনকি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছুটির তালিকা কিংবা রাকসুর পক্ষ থেকেও কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা বা পরিকল্পনা দেখা যায়নি। শিক্ষার্থীদের জন্য কী ধরনের আয়োজন থাকবে, সে বিষয়েও কোনো বার্তা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রশাসন ও রাকসুর উচিত দিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে উদযাপন করা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে নিজের ভালোলাগা ও সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন অর্থনীতি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী তানভীর ইসলাম। তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এক টুকরো সবুজ স্বর্গ, যেখানে প্রতিটি গাছের পাতায় মিশে আছে ৭৩ বছরের ইতিহাস। এমন একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হতে পারা অত্যন্ত গর্বের। তবে তিনি আবাসনসংকট, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের অব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান করে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও শিক্ষার্থীবান্ধব করে তোলার দাবি জানান তিনি। গৌরবময় অতীত এবং বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণার স্বপ্নকে সামনে রেখে ৭৪ বছরে পদার্পণ করা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে প্রশাসনের প্রত্যয় এবং শিক্ষার্থীদের এই প্রত্যাশা—দুইয়ের সমন্বয়েই আগামী দিনে প্রতিষ্ঠানটি আরও আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222