আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগান সীমান্তে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই আকস্মিক হামলার ফলে আফগানিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলের বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক এবং মারাত্মক মানসিক ট্রমার সৃষ্টি হয়েছে, যার শিকার হচ্ছে মূলত নিরীহ শিশুরা। ওসিএইচএ জোর দিয়ে বলেছে, যেকোনো পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান এই সীমান্ত উত্তেজনা অঞ্চলের মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করে তুলছে। কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যকার এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর, যার ফলে হাজার হাজার পরিবার চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়, বাস্তুচ্যুতি ও জীবননাশের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক হানিফ খান কারুখাইল এই হামলাকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে বলেন, যুদ্ধে শিশুদের কোনো ভূমিকা থাকে না, তাই যেকোনো সংঘাতে শিশু হত্যা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
অন্য দিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক সামিউল্লাহ আহমাদজাই মনে করেন, পাকিস্তান নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতে এবং বিশ্ব দরবারে নিজেদের সন্ত্রাসবাদের ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করে আন্তর্জাতিক তহবিল পাওয়ার জন্য এই ধরনের আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করছে। সামরিক বিশ্লেষক তোরিয়ালাই জাজাই মন্তব্য করেন, পাকিস্তান দীর্ঘ সময় ধরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক আচরণ করলেও আফগান পক্ষ থেকে কখনোই এমন আগ্রাসী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের পাক্তিয়া, পাক্তিকা ও কুনার প্রদেশে পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর চালানো তীব্র বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া এই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ১৬৩ জনেরও বেশি মানুষ। এই রক্তক্ষয়ী হামলার পর থেকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন।
টিএইচএ/
