৩৬নিউজ ডেস্ক: তিস্তা নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় নদী ভাঙন তীব্র রূপ ধারণ করেছে। উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রামে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাব্যাপী চলছে তিস্তার এই ধ্বংসলীলা। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে দুই গ্রামের ১৯টি বসতভিটা, গাছপালা ও শত শত বিঘা ফসলি জমি। ভাঙনের এই তীব্র শোকে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
তিস্তার প্রবল স্রোত আর বাতাসের কারণে চোখের পলকেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে কৃষকের বাদাম, আমন ধানের বীজতলা, মরিচ, শাকসবজি, পাট ও ভুট্টার খেত। চর বিদ্যানন্দ গ্রামের কাফি নামের এক ভুক্তভোগী বুকভরা কষ্ট নিয়ে জানান, চোখের নিমিষে তাঁর বাড়িভিটা নদী গ্রাস করে নিয়েছে। ৪টি ঘর কোনো রকমে সরিয়ে নিতে পারলেও ৩টি আমগাছ ও ১টি জামগাছ কাটার আগেই নদীতে ডুবে যায়। এই শোকে বাড়ি ভাঙার তিন দিন পর তাঁর ষাটোর্ধ্ব বাবা কাদের আলী মারা যান। বর্তমানে কোনো রকমে আনন্দ বাজারে অন্যের জমিতে ঘর তুলে আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা। একই গ্রামের রোস্তম আলী জানান, এ নিয়ে ৫ বার তাঁর বাড়িভিটা নদীগর্ভে চলে গেল। আড়াই বিঘা পাট ও আমন ধানের বীজতলা হারিয়ে এখন নিঃস্ব তিনি। এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সাহায্য মেলেনি বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন দুর্গতরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহে চর বিদ্যানন্দের কাফি, আ. জলিল, রশিদুল, গনি মুন্সী, মোতালিব, আশরাফুল, লোকমান, জয়নাল, আ. সালাম, রফিকুল ও শফিকুল এবং চর তৈয়বখাঁ গ্রামের মোস্তফা কামাল, রোস্তম, সাত্তার, জহুরুল, আইয়ুব আলী, মোকছেদ, রওশন আরা ও ফকরুল ইসলামসহ ১৯টি পরিবার সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। শুধু ঘরবাড়িই নয়, চর বিদ্যানন্দ গ্রামের পূর্বচর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মসজিদ এখন ভাঙনের মুখে। স্কুলটি নদীগর্ভে চলে গেলে চরের শত শত শিশুর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে। বর্তমানে আরও দুই শতাধিক বাড়িঘর চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থার দাবিতে তিস্তাপাড়ের দুই গ্রামের মানুষ ঘণ্টাব্যাপী এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মাঈদুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম ও আশরাফুল হকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম চরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ভাঙনের কারণে তাঁর ইউনিয়নের ৭৫ ভাগ এলাকা ইতোমধ্যে মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট অংশটুকুও এখন বিলীনের পথে। চর বিদ্যানন্দ ও তৈয়বখাঁ গ্রাম দুটি ভাঙতে ভাঙতে এখন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সীমানায় গিয়ে ঠেকেছে। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলা জুড়ে প্রায় ৪০টি পয়েন্টে ভাঙন চলছে এবং জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে ৩০টি পয়েন্টে ২ লাখ জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে চরাঞ্চলের জন্য আলাদা কোনো বাজেট বরাদ্দ না থাকায় ওই সমস্ত এলাকায় এখনো ভাঙন রোধে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
টিএইচএ/
