হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ইরানের গতিবিধির মধ্যেই লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা সমুদ্রপথ বাব আল-মান্দাব ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এতে নতুন করে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ ও আকাশপথের অবরোধ প্রত্যাহার না করা হলে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে রিয়াদের জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেন।
ইয়েমেন যখন আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের ‘মাহান এয়ার’-এর দ্বিতীয় বেসামরিক ফ্লাইটটির অপেক্ষায় রয়েছে, তখন বিভিন্ন গণমাধ্যম নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, রিয়াদকে চাপে ফেলতে ‘আনসারুল্লাহ’ আন্দোলন বাব আল-মানদাবের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণকে কাজে লাগানোর কথা বিবেচনা করছে।
সূত্রগুলোর মতে, ইয়েমেনের বন্দরগুলোতে সামুদ্রিক চলাচলের ওপর আরোপিত সব বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের জন্য দেশটি জাতিসংঘ ও সৌদি আরবকে একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। সৌদি আরব যদি এই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে, তবে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদাব প্রণালীতে সৌদি জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেবে।
সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক খালেদ আল-শায়েফ ফ্লাইট পুনরায় চালুর নতুন ব্যবস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনায় নতুন গন্তব্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আল-শায়েফ সানা ও তেহরানের মধ্যে ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়টিকে সমর্থন দিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই কার্যক্রম সম্পূর্ণ বৈধ।
এদিকে রিয়াদ উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি বলেছেন, সৌদি ভূখণ্ডকে লক্ষ্য করে চালানো যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। এর জবাবে আনসারুল্লাহ আবারও হুমকি দিয়েছে, ইয়েমেনের ওপর আরোপিত অবরোধ অবসানে বাধ্য করতে তারা ‘বাব আল-মানদাব কার্ড’ (প্রণালী বন্ধের কৌশল) ব্যবহার করবে।
ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী গত শুক্রবার জানিয়েছে, তারা বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একটি ইরানি বেসামরিক বিমানকে সানা বিমানবন্দরে অবতরণে বাধা দেওয়ার সৌদি প্রচেষ্টাকে সফলভাবে নস্যাৎ করেছে। ইয়েমেন পক্ষ নিশ্চিত করেছে, ইরানি বিমানটি সফলভাবে অবতরণ করে, যাত্রীদের নামিয়ে দেয় এবং নতুন যাত্রী তালিকা নিয়ে তেহরানে ফিরে যায়।
দেশটির প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী জালাল আল-রোয়েইশান সৌদি জোটের সতর্কবার্তার সরাসরি জবাব দিয়ে সৌদি ও মার্কিন ‘দাদাগিরি’ বা আধিপত্যবাদী আচরণের অবসানের অঙ্গীকার করেছেন। আল-রোয়েইশান ঘোষণা করেন, ইয়েমেন তার সামুদ্রিক ও আকাশপথের চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ ভেঙে ফেলবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য সানার যুদ্ধের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়াও আনসারুল্লাহর রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য আবদুল্লাহ আল-নুআইমি সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরব হয়তো ইয়েমেনের বিরুদ্ধে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কিন্তু তারা সেই যুদ্ধ থামাতে পারবে না এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। সূত্র: ইরানা নিউজ
