হিন্দুদের আবেদন খারিজ, মথুরার শাহী ঈদগাহ মসজিদ হিসেবেই থাকবে

by Fatih Work

‘ভারতের উত্তরপ্রদেশের মথুরার শাহী ঈদগাহ মসজিদকে ‘বিতর্কিত সৌধ’ হিসাবে গণ্য করা হবে না। ওই সৌধটিকে আপাতত মসজিদ হিসেবেই গণ্য করা হবে।’- হিন্দু পক্ষের আবেদন খারিজ করে এই সিদ্ধান্ত দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

শুক্রবার (৪ জুলাই) ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যম বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মথুরার শাহী ঈদগাহ মসজিদ ঘিরে হিন্দুরা দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি করে আসছে। এই সংক্রান্ত একাধিক মামলাও চলছে এলাহাবাদ হাইকোর্টে।

বিজ্ঞাপন
banner

সংবাদমাধ্যমগুলো আরো জানায়, কিছুদিন আগে হিন্দু পক্ষের তরফ থেকে আবেদন করা হয়েছিল যে, ওই মসজিদকে আর মসজিদ হিসেবে না ধরে ‘বিতর্কিত সৌধ’ হিসাবে গণ্য করা হোক। আগামী দিনে এই মামলার সমস্ত নথিতে মসজিদটিকে বিতর্কিত সৌধ হিসাবে দেখানোর দাবিতে এলাহাবাদ হাইকোর্টে মামলা করেছিল হিন্দু পক্ষ।

বিপরীতে পাল্টা লিখিতভাবে আপত্তি জানায় মুসলিম পক্ষ। তাদের বক্তব্য, ওই জায়গাটিতে এই মুহূর্তে মসজিদই রয়েছে। তাতে কারো সংশয় নেই। তাই কোনোভাবেই সৌধটির সরকারি স্বীকৃতিতে কোনোরকম বদল করা যাবে না।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রাম মনোহর নারায়ণ মিশ্রের বেঞ্চ ওই মামলায় হিন্দু পক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। মুসলিমদের আপত্তিকে গুরুত্ব দিয়ে ওই মসজিদকে ‘বিতর্কিত সৌধ’ হিসেবে চিহ্নিত করতে আপত্তি জানায় এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

হিন্দুদের আধ্যাত্মিক শহর মথুরায় রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রাচীন মন্দির। হিন্দুদের বিশ্বাস, ওই জায়গাটি শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান। সেই মন্দির চত্বরেই রয়েছে শাহী ঈদগাহ মসজিদ।

কিছু কিছু হিন্দু ইতিহাসবিদের দাবি, প্রাচীন কেশবনাথ মন্দির ভেঙেই মসজিদটি তৈরি করেন আওরঙ্গজেব। ১৯৩৫ সালে ওই মন্দির চত্বরের মালিকানা মথুরার রাজার হাতে সঁপে দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট। পর্যায়ক্রমে সেই স্বত্ব আরোপিত হয় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ঘনিষ্ঠ শ্রী কৃষ্ণভূমি ট্রাস্টের হাতে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে তৈরি হয় সঙ্ঘাত। অবশেষে ১৯৬৮ সালে এক চুক্তির মাধ্যমে জমির মালিকানা হিন্দুদের হাতে থাকলেও মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণ করার অধিকার পায় মুসলিম পক্ষ।

এআইএল/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222