নয়াদিল্লি খালিস্তান আন্দোলন দমনে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকলেও, তা এবার বড় ধরনের ধাক্কা খেল। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘শিখ ফর জাস্টিস’ সংগঠনের নেতা গ্রুপতন্ত সিংহ পান্নু-কে একটি চিঠি পাঠানোর পর থেকে ভারত সরকারের কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) এক্সপ্রেস নিউজ সূত্রে জানা গেছে, চিঠির বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে আসার পর এটিকে ভারতের ‘কূটনৈতিক ব্যর্থতা’ এবং খালিস্তান আন্দোলনের ‘আন্তর্জাতিক সফলতা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যদিও ভারত ২০২০ সালেই পান্নু-কে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করেছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে তিনি এখনো সক্রিয় রয়েছেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে সরাসরি চিঠি পাওয়ায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে নতুন উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
চিঠিতে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি আমার নাগরিক, জাতি এবং আমাদের মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিই। আমেরিকা নিরাপদ থাকলে, তবেই বিশ্ব নিরাপদ হবে। আমি আমার দেশের মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তার জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’
এই চিঠি এমন এক সময় সামনে এলো, যখন ১৭ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে খালিস্তান আন্দোলনের পক্ষে গণভোট (রেফারেন্ডাম) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভোটের আগে এই বার্তাটি কেবল রাজনৈতিক নয়, কূটনৈতিক মহলেও ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।
চিঠিতে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি, সামরিক ব্যয়, বাণিজ্য ও ট্যারিফ এবং আমেরিকান মূল্যবোধ রক্ষার অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি সেই আদর্শগুলোর পক্ষে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেগুলো আমাদের আমেরিকান বানায়।’
এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ভারতের খালিস্তান-বিরোধী অবস্থান পুরোপুরি সমর্থন না করায়, দিল্লির কূটনৈতিক কৌশল ইতিমধ্যেই চাপের মধ্যে রয়েছে। ট্রাম্পের এই চিঠি সেই ব্যর্থতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতেও দাবি করেছিলেন যে, তিনি পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে ২৭ বার যুদ্ধবিরতির চেষ্টা করেছেন। এবার খালিস্তান ইস্যুতে তার প্রত্যক্ষ মন্তব্য মোদি সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: এক্সপ্রেস নিউজ।
অনুবাদ: আমিরুল ইসলাম লুকমান
এআইএল/
