শুক্রবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরামের যুগপূর্তি উৎসব ও লেখক সম্মিলনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির (ইবনে শাইখুল হাদিস) মাওলানা মামুনুল হক বলেন, লেখালেখি একজন শিক্ষিত মানুষের মৌলিক যোগ্যতা হওয়া উচিত। এই যোগ্যতা ছাড়া একজন শিক্ষিত বা জ্ঞানী মানুষ পূর্ণতা পায় না।
আমিরে মজলিস বলেন, একজন লেখকের কলম থেকে সমাজ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, একজন হাজি যদি লেখক হন, তবে তাঁর হজ সফর একটি মূল্যবান সফরনামায় রূপ নেয়, যা শত বছর পরও ইতিহাস হয়ে থাকে। আবার বহু মানুষ কারাগারে যায়, কিন্তু একজন লেখক কারাগারে গেলে তখন জন্ম নেয় গুরুত্বপূর্ণ কারা-সাহিত্য। তখনই জানা যায়, বন্দির অন্তর্জগৎ কেমন ছিল, শাসকের দমন-নিপীড়ন কীভাবে চলেছে, কিংবা চার দেওয়ালের ভেতরে তারা কী ভাবতো।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “২০১৩ সালে আমি ৮৩ দিন কারাগারে ছিলাম। তখন ‘কারাগার থেকে বলছি’ নামে একটি বই লিখেছিলাম, যেখানে যারা কখনো কারাগারে যাননি তারা ভেতরের জীবনের বাস্তব ছবি দেখতে পারবেন।”
তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক কারাবাসে তিনি টানা ৩ বছর ১৫ দিন ছিলেন এবং প্রতিদিনই লিখেছেন। কঠোর নজরদারির কারণে বাংলায় লেখা সম্ভব হয়নি, তবে উর্দুতে লিখে প্রায় দেড় হাজার পৃষ্ঠার পান্ডুলিপি তৈরি করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই লেখাগুলো বাংলায় অনূদিত হয়ে শিগগিরই পাঠকের সামনে আসবে। তাঁর ভাষায়, ‘সেই লেখায় সুসময়ের চিন্তা ও কঠিন সময়ের ভাবনা মিলেমিশে আছে। পাঠকেরা তখন আমাদের সততা ও দুর্বলতা যাচাই করতে পারবেন।’
নবীন লেখকদের উদ্দেশে আমিরে মজলিস বলেন, ‘প্রত্যেককে সবসময় নিজেকে লেখক হিসেবে ভাবতে হবে। প্রতিটি অভিজ্ঞতা যেন একটি লেখায় রূপ নেয়। লেখক সত্তা যেন পরিস্থিতির চাপে ঝরে না পড়ে—এ দায়িত্ব লেখক নিজে যেমন বহন করবেন, তেমনি তাঁর চারপাশের সমাজও।’
হাআমা/
