ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রভাব নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য মূল্যায়ন ঘিরে হোয়াইট হাউসের অসন্তোষের পর, পেন্টাগনের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেফরি ক্রুসকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে আরও দুই জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারকেও অপসারণ করা হয়েছে।
শনিবার (২৩ আগস্ট) ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
পেন্টাগন এক বিবৃতিতে এই বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, তাৎক্ষণিকভাবে এর পেছনের কারণ বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, হোয়াইট হাউসের সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এর মূল কারণ হতে পারে।
বরখাস্তের সিদ্ধান্ত আসে সেই সময়ে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির একটি ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনের উপর।
সেই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার ফলে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি মাত্র কয়েক মাস পিছিয়ে গেছে। হোয়াইট হাউস সেই মূল্যায়নকে ‘পুরোপুরি ভুল’ বলে প্রত্যাখ্যান করে।
ট্রাম্প এই হামলাকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সামরিক অভিযানগুলোর একটি’ বলে বর্ণনা করেন এবং মিডিয়াকে অভিযুক্ত করেন এই সফলতাকে খাটো করার চেষ্টার জন্য। প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথ নিজেও ওই মূল্যায়নকে ‘নিম্ন মানের গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন এবং জানান, ফাঁসের তদন্তে এফবিআই কাজ করছে।
এই বরখাস্তের খবর প্রথম প্রকাশ করে ওয়াশিংটন পোস্ট। ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্স মূলত প্রযুক্তিভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে বিশেষজ্ঞ এবং এটি সরাসরি পেন্টাগনের অধীনে কাজ করে।
শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হেগসেথ আরও দুই উচ্চপদস্থ নৌবাহিনী কর্মকর্তাকেও অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। তারা হলেন নৌবাহিনীর রিজার্ভ প্রধান এবং বিশেষ যুদ্ধ কমান্ডের কমান্ডার।
এআইএল/
