ভিকারুননিসায় হিজাব পরায় বহিস্কার ও পুলিশের দাড়ি রাখায় শাস্তির ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ

by hsnalmahmud@gmail.com

হাসান আল মাহমুদ >>

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বসুন্ধরা শাখায় হিজাব পরার কারণে ষষ্ঠ শ্রেণির প্রায় ২২ জন ছাত্রীকে ক্লাস থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা এবং হবিগঞ্জে তিন পুলিশ সদস্যকে দাড়ি রাখার কারণে শাস্তি প্রদানের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন, আলেম সমাজ ও নেতৃবৃন্দ পৃথক বিবৃতি ও প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ঘটনাগুলোকে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন আখ্যা দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
banner

হিজাবী ছাত্রীদের ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া এবং দাড়ি রাখায় তিন কনস্টেবলকে শাস্তি প্রদান ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন : হেফাজতে ইসলাম

সম্প্রতি ভিকারুননিসা নূন স্কুলে ধর্মপ্রাণ হিজাবী ছাত্রীদের “জঙ্গি” অপবাদ দিয়ে ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া এবং হবিগঞ্জে দাড়ি রাখায় তিন কনস্টেবলকে শাস্তি প্রদানের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান আজ সংবাদমাধ্যমে এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা ঘটনা দুটোকে মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে ইসলামবিদ্বেষ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, সম্প্রতি ভিকারুননিসা নূন স্কুলে একজন নারী শিক্ষিকা কর্তৃক ধর্মপ্রাণ ২২ হিজাবী ছাত্রীকে ‘জঙ্গি’ অপবাদ দিয়ে ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া এবং হবিগঞ্জে দাঁড়ি রাখায় ধর্মপ্রাণ তিন কনস্টেবলকে শাস্তি প্রদান করা ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষ রোধ করার স্বার্থে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে গ্রেফতার করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানাচ্ছি।

তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষ যে দূর হয়নি, উপরোক্ত ঘটনা দুটো তার প্রমাণ। ইতোমধ্যে এলজিবিটিসহ কয়েকটি স্পর্শকাতর ইস্যুতে কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষ আবারও মাথাছাড়া দেওয়ায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে শুধু ফ্যাসিবাদের পতনের জন্যই নয়, কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষও নির্মূল হতে হবে।

হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইসলামবিদ্বেষ ছড়াতে বিভিন্ন কায়েমি বাম-প্রগতিশীল গোষ্ঠী আবারও তৎপর হয়ে উঠেছে। সংখ্যালঘুদের অধিকারের ব্যাপারে তারা সবসময় সরব থাকলেও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব হলে তারা বেমালুম চুপ থাকেন। এটাই তাদের কথিত লিবারেল সেক্যুলারিজম! বিদ্যমান কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষ তাদের এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড চরিত্র নির্মাণে ভূমিকা রেখেছে বলে আমরা মনে করি। আমরা একটি মানবিক, ধর্মপ্রাণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গঠনের জন্য কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষের ঘেরাটোপ থেকে তাদের বেরিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানাই।

ভিকারুননিসার ঘটনায় শিক্ষিকাকে বহিষ্কারের দাবি : মাওলানা মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক ঘটনাটিকে “ইসলামবিদ্বেষী ও ন্যক্কারজনক” আখ্যা দিয়ে অভিযুক্ত ইংরেজি শিক্ষিকা ফজিলাতুন নাহারকে অবিলম্বে বহিষ্কার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, “হিজাব মুসলিম নারীর ঈমানি পরিচয় ও আল্লাহ প্রদত্ত ফরজ বিধান। একজন শিক্ষক হয়ে এই বিধানের বিরুদ্ধে কটূক্তি করা সরাসরি ইসলামের প্রতি শত্রুতা।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে ইসলামবিদ্বেষ ছড়িয়ে দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চাইছে।

দাড়ি রাখার কারণে ৩ পুলিশ সদস্যকে শাস্তি প্রদান ধর্মীয় স্বাধীনতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ

হবিগঞ্জে তিনজন পুলিশ সদস্যকে শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মের অনুশাসন অনুযায়ী দাঁড়ি রাখার কারণে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। এই ঘটনা শুধু ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি দেশের সংবিধান, মৌলিক অধিকার এবং ইসলামের প্রতি প্রশাসনের এক প্রকার অবমাননাকর আচরণ।

সোমবার (২৫ আগস্ট) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এসব কথা বলেন।

নেতৃদ্বয় বলেন, আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, ইসলামে দাঁড়ি রাখা কোনো ফ্যাশন নয়, এটি রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ এবং একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমানের পরিচয় বহন করে। বাংলাদেশে ব্যক্তিগত ধর্মীয় চর্চা ও পরিচিতিকে অপরাধ বিবেচনা করা গ্রহণযোগ্য নয়।
এই ধরনের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

তারা পুলিশ সদস্যদের শাস্তি অবিলম্বে বাতিল করতে এবং এ ধরনের অপতৎপরতা চালানো ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

খেলাফত আন্দোলনের প্রতিবাদ

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ঢাকা মহানগরীও এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটির নেতারা বলেন, ‘সংবিধানপ্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের প্রতি এ ধরনের অবমাননা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

তাদের দাবি—
১. অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামী পোশাক ও হিজাবের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ইসলামী ছাত্রসমাজের প্রতিবাদলিপি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজ হিজাব বিতর্ক ও দাঁড়ি নিষেধাজ্ঞা—উভয় ঘটনাকে “কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে অভিযুক্তদের বহিষ্কার ও উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপ রোধে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।

দাঁড়ি নিষেধাজ্ঞা রাষ্ট্রীয় আঘাত : সাধারণ আলেম সমাজ

সাধারণ আলেম সমাজ এক প্রেস বিবৃতিতে প্রশাসনের দাড়ি-বিষয়ক বিধিনিষেধকে সংবিধান ও শরিয়াহর ওপর “রাষ্ট্রীয় আঘাত” হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা বলেন, “একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রে দাড়ি রাখার জন্য অনুমতি নিতে হবে—এমন নীতিমালা শুধু বৈষম্যমূলক নয়, বরং মুসলিম পরিচয়ের ওপর আঘাত।”

তাদের দাবিগুলো হলো:
১. দাড়ি রাখার সব শর্ত, নিষেধাজ্ঞা ও অনুমতিনির্ভর নিয়ম অবিলম্বে বাতিল করা।
২. দাড়ির কারণে শাস্তি পাওয়া সদস্যদের ক্ষতিপূরণ ও মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া।
৩. প্রশাসনিক নীতিমালায় ইসলামের প্রতি পূর্ণ সম্মান নিশ্চিত করা।
৪. ধর্মীয় প্রতীকের স্বাধীনতা রক্ষায় স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়ন।ৎ

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222