ফ্রান্সে রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি অনস্থা, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং বাজেট কাটছাঁটের বিরুদ্ধে তীব্র জনঅসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ‘সবকিছু থামাও’ আন্দোলন।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) ডেইলি জং সূত্রে আন্দোলনের সমর্থকেরা জানিয়েছেন, ওইদিন ফ্রান্স কার্যত অচল হয়ে যাবে। তারা ধর্মঘট সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
গবেষকরা বলছেন, এই অনলাইন আন্দোলনের ঢেউ ২০১৮ সালের ‘ইয়েলো ভেস্ট’ বিদ্রোহের প্রতিধ্বনি মনে করিয়ে দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বাইরো গত জুলাইয়ে ২০২৬ সালের বাজেট উপস্থাপন করেন। এতে দুটি সরকারি ছুটি বাতিল, সামাজিক ভাতা ও পেনশন স্থগিত রাখার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল। শ্রমিক ইউনিয়নগুলো এ বাজেটকে ‘ভয়ংকর’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সিএফডিটি নেতা মেরিলাইস লিওন একে ‘অত্যন্ত নিষ্ঠুর’ বলে মন্তব্য করেছেন।
‘সবকিছু থামাও’ আন্দোলনের সূচনা হয় মে মাসে অনলাইন রাজনৈতিক গ্রুপ ‘লে এসঁসিয়েল’ এর একটি টেলিগ্রাম পোস্ট থেকে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সমর্থন পায়।
আন্দোলনকারীরা শুধু বাজেট কাটছাঁট নয়, বরং প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পদত্যাগ, গণমাধ্যমের আধিপত্যের অবসান এবং নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাসহ একাধিক দাবি তুলেছে।
তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে সামাজিক ন্যায়বিচার, ন্যায্য মজুরি, অবসরের বয়স পুনর্বিবেচনা, সম্পদ কর পুনর্বহাল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসা ও রাজনৈতিক বিভাজনের অবসান।
প্রতিরোধমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্দোলনকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ, বিশ্ববিদ্যালয়, তেল শোধনাগার, বিমানবন্দর, রেলপথ এবং অ্যামাজন কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
সূত্র: ডেইলি জং
অনুবাদ: আমিরুল ইসলাম লুকমান
এআইএল/
