ভারতের খ্যাতনামা অভিনেতা প্রকাশ রাজ ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যার জন্য শুধু ইসরায়েল নয়, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও দায়ী করেছেন।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) জিও নিউজ সূত্রে ভারতীয় গণমাধ্যম মাকতুব মিডিয়া জানিয়েছে, ১৯ সেপ্টেম্বর চেন্নাইয়ে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল ও গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। তামিলনাডুর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
বিক্ষোভে অভিনেতা সত্যারাজ, প্রকাশ রাজ, চলচ্চিত্র নির্মাতা ভেত্রিমারানসহ বহু নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রকাশ রাজ বলেন, ‘এ সমাবেশ মানবতার পক্ষে দাঁড়ানো মানুষের কণ্ঠস্বর। যদি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা রাজনীতি হয়, তবে হ্যাঁ, এটি রাজনীতি এবং আমরা অবশ্যই বলব।’
সমাবেশে তিনি এক আবেগঘন কবিতা পাঠ করেন, ‘যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে, নেতারা হাত মিলিয়ে চলে যাবে, কিন্তু কোথাও এক মা তার সন্তানের অপেক্ষায় থাকবে, এক স্ত্রী স্বামীর, আর শিশুরা বাবার। এটাই সত্য।’
প্রকাশ রাজ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আজ ফিলিস্তিনে যে অবিচার হচ্ছে, তার দায় শুধু ইসরায়েলের নয়, যুক্তরাষ্ট্রেরও। আর মোদির নীরবতাও সমানভাবে দায়ী।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘যেমন শরীরে ক্ষত হলে তা অবহেলা করলে বেড়ে যায়, তেমনি কোনো জাতির ক্ষতকে নীরবতা আরও গভীর করে তোলে।’
অন্যদিকে অভিনেতা সত্যারাজ গাজায় চলমান হত্যাযজ্ঞকে অসহনীয় এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বলে অভিহিত করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘গাজার ওপর কীভাবে এভাবে বোমা বর্ষণ করা যায়? মানবতা কোথায় হারিয়ে গেল? এত ভয়াবহ অপরাধ করার পর এরা কীভাবে শান্তিতে ঘুমোয়?’
তিনি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘গণহত্যা থামাতে বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
তিনি আরও যোগ করে বলেন, ‘অনেকে প্রশ্ন করে, চেন্নাইতে বিক্ষোভ করলে কী হবে? কিন্তু আজকের যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এ বার্তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।’
সত্যারাজ বলেন, ‘শিল্পীদের দায়িত্ব হলো এমন প্রতিবাদে অংশ নেওয়া। যদি আমাদের খ্যাতি মানবতা ও স্বাধীনতার কাজে না লাগে, তবে তার কোনো মূল্য নেই।’
চলচ্চিত্র নির্মাতা ভেত্রিমারানও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনকে একটি ‘পরিকল্পিত গণহত্যা’ বলে আখ্যা দেন। তার ভাষায়, ‘গাজায় শুধু আবাসিক এলাকা নয়, স্কুল ও হাসপাতাল পর্যন্ত বোমায় ধ্বংস করা হচ্ছে। এমনকি মানুষ যেসব জলপাই গাছের ওপর জীবিকা নির্বাহ করে, সেগুলোও উজাড় করে দেওয়া হচ্ছে।’
সূত্র: জিও নিউজ ও মাকতুব মিডিয়া।
অনুবাদ: আমিরুল ইসলাম লুকমান
এআইএল/
