সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, ভাষায় কারণে দেশ ভাগ হয়নি, এ দেশ ভাগ হয়েছে মুসলমানদের জন্য। ৪৭ সালে মুসলমানদের জন্য এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল। ৭১ এ দেশ আলাদা হয়েছে। যার কারণে লাল সবুজের পতাকা উড়াতে সক্ষম হয়েছি আমরা।
শনিবার (৪ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘স্বাধীনতার পথরেখা – ৪৭,৭১,২৪ প্রেক্ষিত আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, ৪৭ সালে মুসলমানদের জন্য এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল। ৭১ এ আমরা পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়েছি কিন্তু স্বাধীন হয়েছি ৪৭ সালে। ৪৭ সালে দেশ স্বাধীন না হলে কেয়ামত পর্যন্ত আন্দোলন করেও লাল সবুজের পতাকা পাওয়া সম্ভব হতো না।
তিনি আরও বলেন, যখনই আপনি আপনার আদর্শ ছেড়ে দিবেন তখনই রাশিয়া, আমেরিকা, চীন ও ভারত তাদের আদর্শ আমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। ২৪ এর গনঅভ্যুত্থানের পর আমরা আর কোনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির গোলামী করবো না ইনশাআল্লাহ।
৭১ পরবর্তী যারাই এদেশ শাসন করেছে তারা কেউই ইসলামকে বাস্তবায়নের চিন্তা করেনি। ২৪ পরবর্তী সময়ে আমরা এদেশে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে চাই। ইসলামের মধ্যেই রয়েছে মুক্তি, এর বাইরে মুক্তি সম্ভব নয়। আজকে যারা ক্ষমতায় যেতে চায় তারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলছে। মুসলমানদের চেতনাকে ধ্বংস করতে পারলে এই দেশে মুসলমানদের স্বাধীনতা থাকবে না।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেন, ভারত ৭১ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের মাধ্যমে ২৩ বছর শাসন করেছে। এই ভূখণ্ড আমরা ৪৭ এই পেয়েছি। ৪৭ থেকে ২৪ পর্যন্ত সকল শাসকের মনস্তাত্ত্বিক কালচার এবং চিন্তা ছিল উপনিবেশিক। এই উপনিবেশিক চিন্তার শাসকদের জন্য আজ পর্যন্ত আমরা প্রকৃত স্বাধীনতা পাই নাই। গত ১৫ বছর মূলত ভারতই আওয়ামী লীগের মাধ্যমে শাসন করেছে। ২৪ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য ভারত অন্য একটি গোষ্ঠীর মাধ্যমে শাসন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিএনপি-আওয়ামী লীগের সিলসিলা ধরে রেখেছে। শেখ হাসিনা যে ভাষায় কথা বলতো বিএনপিও সেই ভাষাতেই কথা বলছে । বিএনপি ইসলামি শক্তিকে ভয় পায়। ৭২ এর সংবিধানে প্রথম আঘাত করেছিলেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। শেখ হাসিনা যেভাবে ইসলামপন্থীদের আঘাত করতো বিএনপি আজ সেই একই ভাষায় আঘাত করছে। ৭২ এর সংবিধান বহাল রেখে ২৪ এর চেতনাকে হত্যা করা হচ্ছে।
এআইএল/
