মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা করেছেন, ইসরাইল ও হামাস গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। মিসরে কয়েক দিন ধরে চলা পরোক্ষ আলোচনার পর এই সমঝোতা হয়েছে।
কায়রো থেকে এএফপি জানিয়েছে, মিসর, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের পাশাপাশি চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী কাতার বলেছে, এটি ‘গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ। এর মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ হবে, ইসরাইলি পণবন্দী ও ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি এবং ত্রাণ প্রবেশ নিশ্চিত হবে।’
এদিকে ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় বলেছেন, ‘সব বন্দী খুব শিগগিরই মুক্তি পাবে এবং ইসরাইল তাদের সেনাবাহিনী একটি নির্ধারিত সীমারেখায় সরিয়ে নেবে। এটি একটি শক্তিশালী ও চিরস্থায়ী শান্তির প্রথম পদক্ষেপ।’
চুক্তিতে কী আছে?
একজন হামাস কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় তাদের হাতে আটক থাকা ২০ জন জীবিত ইসরাইলি পণবন্দীকে মুক্তি দেয়া হবে। বিনিময়ে দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেয়া হবে। এর মধ্যে ২৫০ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত, বাকি এক হাজার ৭০০ জনকে যুদ্ধ শুরুর পর আটক করা হয়।
চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই বিনিময় সম্পন্ন হবে। একটি ফিলিস্তিনি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, এটি অন্যান্য ফিলিস্তিনি দলগুলোর সাথে সমন্বয় করে চূড়ান্ত হয়েছে।
সূত্রটি আরো জানায়, চুক্তিতে বন্দী বিনিময়ের সাথে সমন্বয় করে ‘নির্দিষ্ট স্থান থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার’ এবং দুর্ভিক্ষপীড়িত গাজা উপত্যকায় ‘ত্রাণ প্রবেশের’ বিষয়টি রাখা হয়েছে।
হামাস জানায়, যুদ্ধবিরতির প্রথম পাঁচ দিনে প্রতিদিন অন্তত ৪০০ ট্রাক ত্রাণ গাজায় প্রবেশ করবে। পরবর্তী সময়ে এই সংখ্যা বাড়বে। এছাড়াও গাজার দক্ষিণ থেকে বাস্তুচ্যুতদের গাজা সিটি ও উত্তরে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হবে।
হামাস ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছে, তিনি যেন চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নে ইসরাইলকে বাধ্য করেন এবং তারা যেন এড়িয়ে যাওয়ার বা বিলম্ব করার সুযোগ না পায়।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, দুই পক্ষই গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের সব ধারা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় একমত হয়েছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য তিনি বৃহস্পতিবার তার মন্ত্রিসভার সাথে বৈঠক করবেন।
চুক্তি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে মিসরে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে। এদিকে হামাসের একজন কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা ‘অবিলম্বে’ শুরু হবে।
এনআর/
