আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা হয়েছে এ বছর শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর। ট্রাম্পের প্রশাসন এই পুরস্কার নিয়ে সমালোচনা করার পর শুক্রবার টেলিফোনে কথা বলেন তারা। ট্রাম্প এ ফোনালাপ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বলে খবর দিয়েছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প নিশ্চিত করেন তিনি মাচাদোর সঙ্গে কথা বলেছেন। এর আগে, স্পেনের সংবাদপত্র ‘এল পাইস’–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাচাদো জানান, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো পুরস্কার গ্রহণের পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্পকে কৃতজ্ঞতা জানান।
এদিকে ফোনালাপটি ‘খুবই ভালো’ হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘‘নোবেল পুরস্কার যিনি পেয়েছেন, তিনি আজ আমাকে ফোন করে বললেন, ‘আমি এই পুরস্কার আপনাকে উৎসর্গ করছি, কারণ এটি আসলে আপনারই প্রাপ্য ছিল।”
ট্রাম্প আরোও বলেন, ‘‘এটা খুবই সম্মানের বিষয়। আমি বলিনি, ‘তাহলে আমাকেই দিয়ে দিন,’ যদিও মনে হয় তিনি হয়তো সেটাই করতে চাইতেন।’’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমি তাকে অনেক সাহায্য করেছি। ভেনেজুয়েলায় অনেক সাহায্যের প্রয়োজন, একদম বিপর্যস্ত অবস্থা। আর এটাও বলা যায়, পুরস্কারটি ২০২৪ সালের জন্য দেওয়া হয়েছে, যখন আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলাম।’
ট্রাম্প বহুবার প্রকাশ্যে বলেছেন যে তিনি নোবেল পুরস্কার পেতে চান। বিশ্বের অনেক নেতাই এখন মনে করছেন, তিনি এই পুরস্কারের যোগ্য। গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে সাম্প্রতিক অগ্রগতির পর এ ধরনের আহ্বান আরও জোরালো হয়েছে। তবে নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রতি বছরের জন্য মনোনয়ন জানুয়ারির শেষে বন্ধ হয়ে যায়।
শুক্রবার, নোবেল কমিটি ঘোষণা করে ২০২৫ সালের শান্তি পুরস্কার দেওয়া হবে মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে। ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ‘স্বৈরতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তরের জন্য তার সংগ্রামের’ স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার পরপরই ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ছিল নেতিবাচক।
এ প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র স্টিভেন চেউং এক্স প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শান্তি চুক্তি করা, যুদ্ধ বন্ধ করা এবং জীবন বাঁচানো অব্যাহত রাখবেন। তাঁর হৃদয়ে মানবতা রয়েছে, এবং তাঁর মতো কেবলমাত্র ইচ্ছাশক্তির জোরে পাহাড় সরাতে পারেন এমন কেউ আর কখনও আসবেন না।’
মুখপাত্র স্টিভেন চেউং আরও বলেন, ‘নোবেল কমিটি প্রমাণ করেছে যে তারা শান্তির ঊর্ধ্বে রাজনীতিকে স্থান দিয়েছে।’
এনআর/
