কেরালায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনে আত্মহত্যা করেছেন কেরালার তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী আনন্দু আজি।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) ইন্ডিয়া টুডে সূত্রে জানা যায়, ২৬ বছর বয়সি ওই তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী কোট্টায়ামের থামাপালাক্কাড়ের বাসিন্দা ছিলেন। বৃহস্পতিবার তিরুঅনন্তপুরমের একটি লজ থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃত্যুর পর তার ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট ভেসে উঠেছে। সম্ভবত আত্মহত্যার আগে সেই পোস্টটি তিনি শিডিউল করে রেখেছিলেন।
ওই পোস্টে আনন্দু বলছেন, কোনও প্রেমিকা নন, আর্থিক সমস্যা নয়, পারিবারিক অশান্তি নয়, তার মৃত্যুর জন্য দায়ী মানসিক অসুস্থতা। ছোটবেলায় সাংঘাতিক অত্যাচারের জেরেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি।
ওই তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর বক্তব্য, ছোটবেলায় তার বাবাই তাকে আরএসএস শাখায় ভর্তি করেন। কিন্তু মাত্র ৩-৪ বছর বয়সেই শাখায় ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের শিকার হন তিনি। এক ব্যক্তি লাগাতার ধর্ষণ করে তাকে। সংঘের অন্য স্বয়ংসেবকরাও নিয়মিত ধর্ষণ করত।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী জবাবদিহিতার দাবি করে বলেন, ‘আত্মহত্যার বার্তায় আনন্দু আজি অভিযোগ করেছেন যে আরএসএসের একাধিক সদস্য তাকে বারবার নির্যাতন করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তিনিই একমাত্র শিকার নন এবং আরএসএস শিবিরগুলোতে ব্যাপক যৌন নির্যাতন চলছে। যদি এটি সত্য হয়, তাহলে তা ভয়াবহ।’
প্রিয়াঙ্কা সতর্ক করে আরো বলেছেন, আরএসএস শিবিরে যোগদানকারী লাখ লাখ শিশু-কিশোর ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে এবং সংগঠনের নেতৃত্বকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। কংগ্রেস নেত্রীর কথায়, ‘ছেলেদের উপর যৌন নির্যাতন মেয়েদের মতোই ব্যাপক একটি ব্যাধি। এই অবর্ণনীয় জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে নীরবতা ভাঙতে হবে।’
ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক ভি কে সনোজ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ন্যায়বিচারের দাবিকে সমর্থন করে বলেন, ‘দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক। আনন্দু যাদের কথা বলেছেন তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা উচিত।’
কেরালা পুলিশ আজির মৃত্যুর তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। এদিকে আরএসএস শিবিরের মধ্যে ‘যৌন নির্যাতনের’ বিষয়ে আরও বিস্তৃত তদন্তের জন্য সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
এআইএল/
