সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের মামলায় বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী (বুয়েট) শ্রীশান্ত রায়কে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত বুধবার (২২ অক্টোবর) এ আদেশ দেন।
এর আগে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নিরাপত্তাকর্মী মো. আফগান হোসেন মঙ্গলবার গভীর রাতে চকবাজার থানায় সাইবার অধ্যাদেশ অনুযায়ী শ্রীশান্ত রায়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে, আসামি বুয়েটের আহসান উল্লাহ হলে অবস্থান করে ছদ্মনাম ‘উইকলি সার্ভিস’ নামের আইডি ব্যবহার করে মুসলিম নারী ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে গত ৮ জুন থেকে ৭ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন লেখা লেখেন।
আসামি মুসলিম নারীসংক্রান্ত অশ্লীল মন্তব্য এবং ধর্মীয় ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছেন, যা বুয়েটের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এনেছে।
সামাজিক মাধ্যম রেডিটের ‘উইকলি সার্ভিস’ ওই আইডিতে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ওই আইডি দিয়ে ‘বিটিএস৯০৩৪’ নামের একটি আইডির সাথে কথোপকথন করা হয়।
ওই কথোপকথনে প্রথমেই বলা হয়, ‘আমি একজন মুসলিম ছাত্রীকে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছি, মেয়েটি হট।’ ‘বিটিএস৯০৩৪’ বলে, আমাকে বিস্তারিত বলো।
এর উত্তরে ‘উইকলি সার্ভিস’ বলে, ‘সে আমার ক্লাসমেট। তাকে পেয়েছি টিএসসির একটি কনসার্টে, ওই কনসার্টে তাকে আমি গাঁজা খাওয়াই।’ এরপর ‘বিটিএস৯০৩৪’ জিজ্ঞেস করে কোথায়? তখন ‘উইকলি সার্ভিস’ উত্তর দেয়, ‘হোটেল আল ফাহাদ ধানমণ্ডি।’
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই স্ক্রিনশট আসলেই শ্রীশান্তের কি না, তদন্ত করলে সেটা বোঝা যাবে। তবে নেটিজেনরা বলছেন, ধানমণ্ডির হোটেল আল ফাহাদের প্রবেশ পথের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলেই আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে।
এআইএল/
