লিওনেল মেসি কি খেলবেন ২০২৬ বিশ্বকাপে? এই প্রশ্নটা ঘুরে ফিরেই আসছে ফুটবলে। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর থেকে মেসি কখনো সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলেননি। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টাইন তারকা জানিয়েছেন, আগামী বিশ্বকাপে খেলতে চান তিনি—যদি শরীর সাড়া দেয়।
মেসির ভাষায়,
সত্যি বলতে, বিশ্বকাপে খেলা এক অসাধারণ ব্যাপার। আমি সেখানে থাকতে চাই। আর যদি থাকি, তাহলে জাতীয় দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চাই।
তিনি আরও যোগ করেন,
আগামী বছর ইন্টার মায়ামির প্রাক্-মৌসুম শুরু হলে প্রতিদিন নিজের অবস্থা দেখব। আমি শতভাগ ফিট কি না। আমরা আগের বিশ্বকাপ জিতেছি, আবার সেটি ধরে রাখার সুযোগ পাওয়া দারুণ হবে। জাতীয় দলের হয়ে খেলা সব সময়ই স্বপ্নের মতো।
এর আগে সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতির সময়ও মেসি জানিয়েছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা না খেলার সিদ্ধান্ত তিনি নেবেন শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে। প্রীতি ম্যাচে ভেনেজুয়েলাকে হারানোর পর তিনি বলেন,
আমি চেষ্টা করছি ভালো থাকতে, আর নিজের সঙ্গে সৎ থাকতে। শরীর সাড়া না দিলে খেলাটা উপভোগ করা যায় না। মৌসুম শেষ করে প্রাক্-মৌসুমে প্রস্তুতি নেব, তারপর দেখা যাবে কেমন অনুভব করি।
ফর্মের দিক থেকে অবশ্য এখনো উজ্জ্বল মেসি। ইন্টার মায়ামির হয়ে এমএলএস মৌসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন তিনি। ২৮ ম্যাচে ২৯ গোল করে প্রথমবারের মতো এমএলএস গোল্ডেন বুট জিতেছেন এবং ২০২৫ সালের এমএলএস এমভিপি (সর্বোচ্চ মূল্যবান খেলোয়াড়) পুরস্কারের ফাইনালিস্ট হয়েছেন। এই পুরস্কার জিতলে তিনি হবেন ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড়, যিনি টানা দুই মৌসুমে এমভিপি জিতবেন।
তবে আপাতত মেসির লক্ষ্য ক্লাবের সাফল্য। ইন্টার মায়ামি ন্যাশভিলের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে ৩–১ গোলে জিতে এমএলএস কাপ সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে আছে। আগামী ২ নভেম্বর ভোরে দ্বিতীয় ম্যাচে জিতলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করবে দলটি।
সব মিলিয়ে মেসি এখনও ‘না’ বলেননি—বরং ইঙ্গিত দিয়েছেন, শরীর ফিট থাকলে ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁকে আবারও দেখা যেতে পারে।
টিএইচএ/
