তানজানিয়ার ৬৫ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান দ্বিতীয় মেয়াদে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই দেশজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ চলছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল তানজানিয়ার নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করেছে। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, সামিয়া হাসান ৯৭.৬৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় সবকটি নির্বাচনী এলাকায় এগিয়ে ছিলেন। আজই তার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে ফলাফল ঘোষণার আগেই বিরোধী দলগুলোর আহ্বানে দেশব্যাপী বিক্ষোভ শুরু হয়, যা দমন করতে গিয়ে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
বিরোধী দল চাদেমা পার্টি দাবি করেছে, সরকারি দমন-পীড়নে এখন পর্যন্ত ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনী এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৫ জনের বেশি নয়।
নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয় যখন বিরোধী দলের প্রধান নেতাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয় এবং একাধিক নেতা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে বন্দী থাকেন।
নির্বাচনের দিন রাজধানী দোদোমাসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা সরকারবিরোধী স্লোগান তোলেন এবং প্রেসিডেন্ট সামিয়া হাসানের ছবিযুক্ত পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন। রাজধানীতে কয়েকটি সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যার জবাবে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও গুলি ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।
তবে এখনও পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান নির্বাচনের ফলাফল বা সহিংসতা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জন মাগুফুলির আকস্মিক মৃত্যুর পর তিনি তানজানিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এর আগে তিনি দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
সূত্র: আল জাজিরা ও এক্সপ্রেস নিউজ।
অনুবাদ: আমিরুল ইসলাম লুকমান
এআইএল/
