ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ১৪ লাখ মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। খাবারের সংকট, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও পর্যাপ্ত ত্রাণের অভাবে লাখো মানুষ মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় দিন পার করছেন।
গত সপ্তাহে মালাক্কা প্রণালীতে সৃষ্ট বিরল ঘূর্ণিঝড় আচেহ, উত্তর সুমাত্রা ও পশ্চিম সুমাত্রায় আঘাত হানলে ব্যাপক বন্যা দেখা দেয়। এতে ৫০০ র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কাঁদায় ভরা রাস্তাঘাট ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকর্মীদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতেও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই এটিকে জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা বলে বর্ণনা করছেন। আচেহর বাসিন্দী আমালিয়া বলেন, “এটা সুনামির মতো লেগেছে। আমার দাদির মতে, এটি তার জীবনে দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগ।”
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাবার ও সুপেয় পানির অভাব চরম আকার ধারণ করেছে। মধ্য তাপানুলি এলাকার মায়াসানতি জানান, তাদের অঞ্চলে সাহায্য পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। “সবকিছু শেষ। খাবার নেই। নুডুলস নিয়েও মারামারি হচ্ছে। আমাদের দিকে আসার সব পথ বিচ্ছিন্ন।”
বহু মানুষ তিন থেকে চার দিন ধরে কোনো খাবার পাননি বলেও জানিয়েছেন। অনেকেই ইন্টারনেট, পানি ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগসুবিধার জন্য কয়েক কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। মধ্য আচেহতে স্টারলিংক ডিভাইস দেওয়া হলে সেখানে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়—পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের আশায়।
উদ্ধার তৎপরতা চললেও সরকারের দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ত্রাণ বিতরণে ধীরগতির সমালোচনা বাড়ছে। সমালোচকদের অভিযোগ—বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি দুর্বল ছিল এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ত্রাণ বিলম্বিত হচ্ছে।
সোমবার দেশটির প্রেসিডেন্ট উত্তর সুমাত্রা পরিদর্শন করে স্বীকার করেন, অনেক রাস্তাই এখনো বিচ্ছিন্ন। তবে তিনি বলেন, “দৃঢ়তা ও সংহতির মাধ্যমে আমরা এই দুর্যোগ মোকাবিলা করছি। জাতি হিসেবে আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছি।”
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গত সপ্তাহের বন্যা ও ভূমিধসে মোট ১১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় ৩৫৫ এবং থাইল্যান্ডে ১৭৬ জন মারা গেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্দোনেশিয়ার এ বন্যা কোনো একক আবহাওয়াগত কারণে নয়; বরং একাধিক জলবায়ুগত উপাদানের সমন্বয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে।
টিএইচএ/
