নিজস্ব প্রতিবেদক:
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ছয়টি ইটভাটা ভেঙে ফেলেছে পরিবেশ অধিদফতর। এ সময় ইটভাটার সমস্ত কাঁচা ইট, চিমনি ও কীলন ভেঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সাহায্যে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সারাদিনব্যাপি উপজেলার বাকা-জুকা, পাটনা, বাবুপুর বাজার ও বড়নাল বাজার এলাকায় অবস্থিত মোট ছয়টি ইটভাটা গুড়িয়ে দেয় প্রশাসন। পরিবেশ অধিদফতর খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম এর নেতৃত্বে এবং পরিবেশ অধিদফতর নড়াইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মালেক মিয়ার পরিচালনায় জেলা পুলিশ, আনসার ভিডিপি সদস্য, ফায়ার সার্ভিস, কালিয়া থানা পুলিশ ও আর্মি ক্যাম্পের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পরিবেশ অধিদফতর নড়াইল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিনব্যাপি অভিযানে কালিয়া উপজেলার বাবুপুর বাজার, বাকা-জুকা, পাটনা ও বড়নাল বাজার এলাকায় ড্রাম চিমনি বিশিষ্ট মেসার্স বি বি সি ব্রিকস, মেসার্স এস এস বি ব্রিকস, মেসার্স স্টোন ব্রিকস, মেসার্স চৌধুরী ব্রিকস ও মেসার্স আর বি আই ব্রিকস এবং জিকজ্যাক পদ্ধতির মেসার্স এস এম বি ব্রিকস নামে ছয়টি ইটভাটার চিমনি, কীলন এবং ইটভাটার সমস্ত কাঁচা ইট ভেঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সাহায্যে পানি দিয়ে ভাটার আগুন নিভিয়ে সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, এই ইটভাটাগুলো কোন বৈধ অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল, যা পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি তৈরি করছিল। এসব ইটভাটার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে এবং এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করতে প্রশাসন এই অভিযান পরিচালনা করেছে। এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতর কোন ধরনের অবৈধ শিল্প প্রতিষ্ঠান সমাজ ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করলে তা বন্ধ করার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেবে— যা স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা ও আইনগত শৃঙ্খলার নিশ্চয়তা প্রদান করে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতর খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম বলেন, “ইট ভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ পুড়িয়ে পরিবেশের জন্য যে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে তার জন্যেই এ অভিযান। অভিযানে ছয়টি অবৈধ ইটভাটা ভেঙে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এমএআর/
