আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় লেবাননে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চালানো এই পৃথক ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। এই প্রাণঘাতী হামলাগুলোর পর ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে শত্রুতা অবসানের জন্য ঘোষিত চুক্তির স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নাবাতিহ গভর্নরেটের জেবচিত শহরে একটি নার্সারিতে কাজ করার সময় ইসরায়েলি হামলায় দুই সিরীয় নাগরিক নিহত হন। এছাড়া নাবাতিহর তৌল এলাকার শহীদ সাবরা স্ট্রিটে একটি মোটরসাইকেল এবং আনসারের দিয়াত আল-আরব এলাকায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এই দুই হামলায় আরও দুজন প্রাণ হারান। পৃথক আরেকটি ড্রোন হামলায় নাবাতিহ এলাকায় একটি গাড়ির চালক নিহত হয়েছেন বলে এনএনএ নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েল কিংবা হিজবুল্লাহ কোনো পক্ষই ট্রাম্পের সেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেওয়ার কথা না জানালেও এই হামলাগুলো চালানো হলো।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং হিজবুল্লাহর নেতাদের সঙ্গে পৃথকভাবে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এরপরই তিনি ঘোষণা করেন যে, ইসরায়েল এবং ইরান-অনুগামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ আক্রমণ বন্ধ ও সংঘাত নিরসনে সম্মত হয়েছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছিল, এই সমঝোতার অধীনে হিজবুল্লাহ আর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে কোনো রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়বে না এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে তাদের বিমান হামলা বন্ধ রাখবে।
এই কূটনৈতিক তৎপরতার ঠিক আগেই গত দুই দশকের মধ্যে লেবাননের অভ্যন্তরে ইসরায়েলি স্থলবাহিনী সবচেয়ে গভীর অনুপ্রবেশ ঘটালে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। ইসরায়েলি বাহিনী বৈরুতের শহরতলিতে ভারী বোমাবর্ষণ এবং বড় ধরনের আক্রমণের হুমকি দিচ্ছিল, যা ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল বলয়ের মধ্যে একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরও মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে এই হামলার দায় হিজবুল্লাহ এখনো স্বীকার করেনি।
বৈরুত থেকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের ঘোষণার পর হিজবুল্লাহ সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে কোনো বড় ধরনের হামলার দাবি না করলেও, দক্ষিণ লেবানন দখল করে রাখা ইসরায়েলি স্থল সেনাদের ওপর তারা অবিরাম প্রতিরোধ ও আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বোফোর্ট দুর্গের পাহাড়ি এলাকায় হিজবুল্লাহর প্রতিরোধে অন্তত দুজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি ও পাল্টা হামলার ঘটনা প্রমাণ করে যে, বিশ্বনেতাদের ঘোষিত এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি আসলে কতটা ভঙ্গুর এবং মাঠপর্যায়ে হিজবুল্লাহ এখনো ইসরায়েলি বাহিনীকে বড় ধরনের আঘাত হানার সক্ষমতা পুরোপুরি ধরে রেখেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
টিএইচএ/
