ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে।
পোস্টে বলা হয়, ওসমান হাদির ভাই আবু বকর সিদ্দীক, বোন মাসুমা এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতা আব্দুল্লাহ আল জাবের, ফাতিমা তাসনিম জুমা ও মো. বোরহান উদ্দিন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ওসমান হাদির সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “সারা দেশ তার জন্য দোয়া করছে। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজনে দেশের বাইরে যেখানেই পাঠানো দরকার হবে, সরকার সেখানেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে।”
এ সময় ওসমান হাদির বোন বলেন, ছোটবেলা থেকেই হাদি দেশকে মনেপ্রাণে ভালোবাসত এবং বিপ্লবী চেতনা ধারণ করত। বিদ্রোহী কবিতা তার খুব প্রিয় ছিল। তিনি বলেন, হাদির একটি ১০ মাসের সন্তান আছে এবং হাদি তাদের পরিবারের মেরুদণ্ড। “ওর অনেক কাজ বাকি, ওকে বেঁচে থাকতে হবে। আপনারা বিপ্লবী সরকার—যে করেই হোক জুলাই বিপ্লবীদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে, না হলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকিতে পড়বে”
হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “৫ আগস্টের পর অনেকে বাসায় ফিরে গেলেও ওসমান হাদি ফেরেনি। সে জুলাই বিপ্লবকে ধারণ করত এবং দিনরাত কাজ করত। যে ব্যক্তি গুলি করেছে বলে শোনা যাচ্ছে, সে আগে একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিল—কোন প্রক্রিয়ায় সে জামিন পেয়েছে, তা তদন্ত করা দরকার।”
এ সময় ফাতিমা তাসনিম জুমা জুলাই যোদ্ধাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং ঘটনার আদ্যপান্ত বিশ্লেষণ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ ইতোমধ্যেই দেওয়া হয়েছে।
সাক্ষাতে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
টিএইচএ/
