মহাকাশের কোনো এক উৎস থেকে পৃথিবীর দিকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হলেও অত্যন্ত উজ্জ্বল নীল আলোর ঝলকানি ধেয়ে আসছে। এগুলো আসলে কী? অবশেষে এর সূত্র খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।
এ মহাজাগতিক ঘটনাটি ‘লুমিনাস ফাস্ট ব্লু অপটিক্যাল ট্রানজিয়েন্টস’ বা এলএফবিওটিএস নামে পরিচিত। এগুলো সংক্ষিপ্ত ও উজ্জ্বল আলোর ঝলকানি হিসেবে দেখা দেয়, যা মিলিয়ে যাওয়ার সময় এক্স-রে ও রেডিও তরঙ্গ বিকিরণ করে।
গত এক দশকে বিজ্ঞানীরা এক ডজনেরও বেশি এমন আলোর দেখা পেলেও এগুলো দীর্ঘ সময় ধরে তাদেরকে বিভ্রান্ত করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট।
বিজ্ঞানীদের সম্ভাব্য ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে অদ্ভুত কোনো সুপারনোভা থেকে শুরু করে ব্ল্যাক হোলের মাধ্যমে আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্যাস গিলে ফেলা পর্যন্ত সবকিছুই ছিল। তবে এখন বিজ্ঞানীরা বলছেন, অন্য একটি ব্যাখ্যা খুঁজে পেয়েছেন তারা।
গত বছর খুঁজে পাওয়া নতুন এক ঘটনা পর্যবেক্ষণের পর গবেষকরা এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, যা এ পর্যন্ত দেখা এই ধরনের আলোগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিল বলে দাবি তাদের।
সেই নতুন ঘটনা থেকে ইঙ্গিত মিলেছে, এসব এলএফবিওটিএস মূলত ‘এক্সট্রিম টাইডাল ডিসরাপশন’। এমন ঘটনা তখনই ঘটে যখন বিশাল এক ব্ল্যাক হোল নিজের পাশের কোনো তারাকে গিলে ফেলার পাশাপাশি সেটিকে টেনে ছিঁড়ে ফেলে।
এ সংশ্লিষ্ট গবেষকরা বলেছেন, এ রহস্যময় ঘটনাটি ব্যাখ্যার পাশাপাশি ব্ল্যাক হোল কীভাবে কাজ করে ও বিভিন্ন তারা কীভাবে বিবর্তিত হয় সে সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা দিতে পারে এ গবেষণা। যেমন– বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে বিশালাকার ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব দেখা গেলেও এগুলো আসলে ঠিক কীভাবে তৈরি হয় তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানেন না বিজ্ঞানীরা।
‘ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে বা ইউসি বার্কলের জ্যোতির্বিদ্যা ও পদার্থবিদ্যার সহযোগী অধ্যাপক রাফায়েলা মারগুত্তি বলেছেন, “বিশাল আকারের এসব ব্ল্যাক হোল কীভাবে তৈরি হয় এবং লাইগো পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র যা পর্যবেক্ষণ করে তা ব্যাখ্যার জন্য অনেকগুলো উপায় বের করেছেন তাত্ত্বিকরা। আমাদের এই প্রশ্নটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে এলএফবিওটিএস।
“এসব রহস্যময় বস্তু নিজেদের মূল ছায়াপথের ঠিক কোন জায়গায় অবস্থান করছে তা সুনির্দিষ্টভাবে আমাদের চিহ্নিত করতে সাহায্য করেছে এলএফবিওটিএস। পাশাপাশি ঠিক কীভাবে একটি বিশালাকার ব্ল্যাক হোল ও এর সঙ্গে একটি সঙ্গী তারা একত্রে তৈরি হল তা বুঝতে আমাদের আরও বেশি সহায়ক তথ্য দিয়েছে এগুলো।”
এ নতুন গবেষণার বিষয়টি দুটি আলাদা গবেষণাপত্রে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন গবেষকরা।
গবেষণাপত্র দুটি বর্তমানে অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে এবং এগুলো জনপ্রিয় বিজ্ঞান সাময়িকী ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স’-এ প্রকাশের জন্য মনোনীত হয়েছে।
এনআর/
