জুলাই যোদ্ধা ওসমান হাদির রক্তে আবারও জ্বলছে রাজপথ

by hsnalmahmud@gmail.com

আব্দুল্লাহ কাসিম আজওয়াদ >>

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই যোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদীর শাহাদাতে দেশজুড়ে শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, ছাত্র ও ধর্মীয় সংগঠন।

বিজ্ঞাপন
banner

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে শহীদ ওসমান হাদীর মরদেহ বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-৩৮৫ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ ওসমান হাদীর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের কোনো ধরনের ব্যাগ বা ভারী বস্তু বহন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান হাদী। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, শহীদ ওসমান হাদী ছিলেন ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রামের অগ্রসেনানী। তারা এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি ‘২৪-এর পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি’ ও আধিপত্যবাদী চক্রের প্রতিশোধমূলক আঘাত।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ওসমান হাদীর হত্যাকারী, নির্দেশদাতা ও চক্রান্তকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি শহীদ হাদীর অসমাপ্ত স্বপ্ন ও সংগ্রাম এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

রাজপথে প্রতিবাদ

হাদী হত্যার বিচারের দাবিতে শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে ‘হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার’সহ নানা স্লোগান দেওয়া হয়।

একই দিন খেলাফত মজলিসের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর শাখার উদ্যোগে পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। উত্তরা এলাকায় আয়োজিত প্রতিবাদ মিছিলে বক্তারা বলেন, এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী দমন-পীড়নেরই ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ। প্রশাসনের ভেতরে থাকা ফ্যাসিবাদী দোসরদের দ্রুত চিহ্নিত করে অপসারণের দাবিও জানান তারা।

বিভিন্ন সংগঠনের শোক ও কর্মসূচি

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠন পৃথক বিবৃতিতে ওসমান হাদীর শাহাদাতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তারা এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত টার্গেট কিলিং উল্লেখ করে ঘাতকদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানায়।

জাতীয় তাফসীর পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেন, ওসমান হাদীকে হত্যার মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির গভীর চক্রান্ত চলছে। তিনি প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

শহীদ ওসমান হাদীর রক্তে আবারও রাজপথ উত্তাল হয়ে উঠেছে। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে বিভিন্ন সংগঠন ঘোষণা দিয়েছে—হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি আসবে।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222