ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের জন্য গোয়েন্দাগিরি করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ফাঁসি দিয়েছে ইরান। ইরানি মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১০ জনকে একই অভিযোগে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ইসরায়েলের জন্য গোয়েন্দাগিরি করছিল।
আজ যাকে মোসাদের জন্য গোয়েন্দাগিরি করার অভিযোগে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, তার নাম ছিল অগিল কাশাভারজ। ইরানের সুপ্রিম কোর্ট তার ফাঁসির সাজা বহাল রাখার পর আজ তার সাজা কার্যকর করা হয়।
২৭ বছর বয়সী অগিল কাশাভারজ একজন স্থাপত্য (আর্কিটেকচার) ছাত্র ছিলেন। তাকে ২০২৩ সালের শুরুর দিকে ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আর্মিয়া থেকে আটক করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অগিল কাশাভারজ তখন একটি সামরিক সদর দফতরের ছবি তুলছিলেন, তখন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, কাশাভারজ স্বীকার করেছিলেন যে তিনি ওই ছবি ইসরায়েলের জন্য তুলেছিলেন এবং মোসাদ থেকে অর্থ গ্রহণ করেছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, অগিল কাশাভারজ ইরানের বিভিন্ন শহর, যেমন তেহরান, ইসফাহান, আর্মিয়া ও শাহরুদে মোসাদের জন্য ২০০টিরও বেশি মিশন পরিচালনা করেছিলেন। এসব মিশনের মধ্যে ছিল গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ছবি তোলা, জনমত জরিপ চালানো এবং নির্দিষ্ট এলাকাগুলোর যানবাহন ও ট্রাফিকের তদারকি করা।
ইরানি সরকার সম্প্রতি ইসরায়েলের হামলার পর দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানের মধ্যে কয়েক ডজন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১০ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।
অগিল কাশাভারজের মোসাদ ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগ ধরা পড়েছিল, এবং তাকে মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করার পর ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হতো।
ইরানি বিচার বিভাগ বলেছে যে অগিল কাশাভারজ ইচ্ছাকৃতভাবে ইসরায়েলি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করেছে এবং ইসলামিক রেভোলিউশনের বিপক্ষে কাজ করার লক্ষ্য ছিল।
এছাড়া, ইরান গত অক্টোবর মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গোয়েন্দাগিরি করার বিরুদ্ধে তার আইনগুলো আরও কঠোর করেছে।
সূত্র: জিও নিউজ।
অনুবাদ: আমিরুল ইসলাম লুকমান
এআইএল/
