স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুরের শ্রীপুরে কালার কো-লিমিটেড পোশাক কারখানার মেশিন অপারেটর লিজা আক্তারের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টি। একই সঙ্গে এই মৃত্যুর জন্য দায়ী সুপারভাইজার ও কারখানার মালিককে অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (২৭ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির আহ্বায়ক রিদওয়ান হাসান ও সদস্য সচিব সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর এই দাবি জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লিজা আক্তার কর্মস্থলে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর একাধিকবার ছুটি চেয়েছিলেন। এমনকি তিনি সুপারভাইজারকে বলেছিলেন, “খুব অসুস্থ লাগছে। মনে হয় মারা যাব। আমার দুটি শিশুসন্তান আছে। সন্তান দুটির সঙ্গে কথা বলে মারা যেতে চাই।” অথচ অভিযোগ রয়েছে, জবাবে সুপারভাইজার অত্যন্ত অমানবিক ও নিষ্ঠুরভাবে বলেছিলেন, “তুই মইরা যাগা, ছুটি নাই।” নেতৃবৃন্দ বলেন, এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এটি শুধু একটি অমানবিক আচরণই নয়, বরং একজন শ্রমিকের জীবন ও মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি চরম অবহেলার নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। অসুস্থতাজনিত ছুটি একজন শ্রমিকের আইনগত ও ন্যায্য অধিকার। সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করে অসুস্থ শ্রমিককে জোরপূর্বক কাজ করানো কোনো সভ্য রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
গ্রীন পার্টির নেতারা আরও বলেন, একজন শ্রমিক যদি অসুস্থতার কথা জানিয়ে বারবার ছুটি প্রার্থনা করার পরও কাজ করতে বাধ্য হন এবং শেষ পর্যন্ত কর্মস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন, তবে এর দায় শুধু সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজারের নয়; কারখানা কর্তৃপক্ষ ও মালিকপক্ষও এ দায় এড়াতে পারে না। কারণ নিরাপদ, মানবিক ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা মালিকের আইনি দায়িত্ব। দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি পোশাকশিল্প শ্রমিকদের শ্রম ও ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। অথচ অনেক ক্ষেত্রে তারা ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রম আইনে স্বীকৃত অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একজন শ্রমিকের জীবন কোনো কারখানার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান। লিজা আক্তারের মৃত্যু যেন আরেকটি কেবল পরিসংখ্যান হয়ে না যায়, সেজন্য এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে লিজা আক্তারের মৃত্যুর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার বিভাগীয় তদন্ত, অভিযোগে অভিযুক্ত সুপারভাইজার ও দায়ী কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নিহত লিজা আক্তারের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান, তার দুই সন্তানের সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ, পরিবারের পুনর্বাসন এবং দেশের সকল শিল্পকারখানায় শ্রমিকদের অসুস্থতাজনিত ছুটি ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি ও শ্রম আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
টিএইচএ/
