হাবিব আহম্মদ মোল্লা, নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসন থেকে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের সদস্য ব্যারিস্টার ফজলের নুর তাপসের খালাতো ভাই ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান এমপি পদে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন। এ নিয়ে নরসিংদীর রায়পুরা ব্যাপক তোলপাড় চলছে।
নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসন থেকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়েছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, ব্যারিস্টার ফজলের নুর তাপসের খালাতো ভাই ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান।
গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) তার পক্ষে ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) সানাউল্লাহ নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানার কাছ থেকে স্বতন্ত্র এমপি পদ প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের একজন কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতার মনোনয়নপত্র সংগ্রহের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এ নিয়ে চলছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়।
জানা যায়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি পদে এ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র, শেখ মুজিবুর রহমানের বোন আমেনা বেগম এবং আবদুর রব সেরনিয়াবাত এর নাতি, ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপসের আপন খালাতো ভাই তার পারিবারিক পরিচয়ের কারণে স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে একটি আলোচিত নাম।
ব্যারিষ্টার তৌফিকুর রহমান গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক দেওয়ার নামে আদিয়াবাদের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী জামানের কাছ থেকে ১২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে যায়। এ নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে বিরোধ চলে, টাকা না দেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যকে মেরে ফেলার অভিযোগ এনে জামানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ছাড়া চাকুরী দেওয়ার নামে আরো বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। ৬ বারের সাবেক এমপি রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র এমপি পদ প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরীর সাথে কিছু দিন সভা সমাবেশে রাজুর এমপির বিভিন্ন অপকর্মের বিরোদ্ধে বক্তব্য দিয়ে মাঠ গরম করে কিছু টাকার বিনিময়ে প্রতারনা করে আবার রাজু এমপির পক্ষে নৌকা মার্কা বিজয়ের জন্য কাজ করেছেন।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তৌফিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, “তৌফিকুর রহমান নামের এক ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী তাকে মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়েছে।”
এমএআর/
