হাসান আল মাহমুদ >>
ভারতের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ক্রীড়াঙ্গন ছাড়িয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তার অজুহাতে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই কেবল ক্রীড়াবিষয়ক নয়, বরং রাজনৈতিক চাপ ও সাম্প্রদায়িক মনোভাবের প্রতিফলন বলে অভিহিত করছেন।
আমরা কাকে শাস্তি দিচ্ছি? প্রশ্ন শশী থারুর
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা শশী থারুর প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমরা কাকে শাস্তি দিচ্ছি — একটি দেশকে, একজন খেলোয়াড়কে, নাকি তার ধর্মকে?’
১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার মদন লালও বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন।
বাংলাদেশে ক্ষোভ: নিরাপত্তা প্রশ্নে বিদ্ধ বিসিসিআই
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক বলেছেন, ‘ভারত যদি একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা দিতে না পারে, তাহলে পুরো দলের নিরাপত্তা কীভাবে দেবে?”
তিনি বলেন, মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু ক্রিকেটীয় নয়, এটি গভীর উদ্বেগের বিষয়, বিশেষ করে সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যখন ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ধর্মীয়-রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ
মুস্তাফিজকে কেনার পর থেকেই ভারতের কিছু উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী, ধর্মীয় নেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তি কেকেআরের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। দেবকীনন্দন ঠাকুর কেকেআরকে খেলোয়াড়টি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান, আর বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোম শাহরুখ খানকে “বিশ্বাসঘাতক” পর্যন্ত বলেন।
শেষ পর্যন্ত বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া এএনআইকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনার কারণে কেকেআরকে মুস্তাফিজকে ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে।’
এই নির্দেশের পর কেকেআর শুধু মুস্তাফিজকে বাদই দেয়নি, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও তার সব পোস্ট সরিয়ে ফেলেছে।
ভারত কি আন্তর্জাতিক আয়োজনের উপযুক্ত?
সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া বলেন, ‘একটি উগ্র রাষ্ট্রকে কোনো আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।’
তিনি সরকার ও বিসিবিকে আহ্বান জানান, অন্যান্য ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের সঙ্গে আলোচনা করে ভারতকে আন্তর্জাতিক আয়োজনের জন্য অনুপযুক্ত ঘোষণা করার উদ্যোগ নিতে।
মিডিয়ার প্রতিবাদ: আইপিএল বর্জনের ঘোষণা
এই ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় দৈনিক আমার দেশ আইপিএলের সব সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। পত্রিকাটির সম্পাদকীয় বোর্ড একে ক্রীড়ার রাজনীতিকরণ ও খেলোয়াড়ের প্রতি বৈষম্যের নজির বলে উল্লেখ করেছে।
বিসিবির অবস্থান: সীমিত ক্ষমতা, জরুরি বৈঠক
বিসিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, বিসিসিআই আনুষ্ঠানিকভাবে জানালে বিসিবির করার খুব বেশি কিছু নেই। তারা সর্বোচ্চ অনুরোধ জানাতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের বোর্ড ও সরকারই নেয়।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, এ বিষয়ে জরুরি সভা ডাকা হয়েছে।
বিশ্বকাপ ঝুঁকিতে?
মুস্তাফিজের নিরাপত্তা নিয়ে যদি ভারত সন্দিহান হয়, তাহলে পুরো বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে — এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়। সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, যেখানে কলকাতায় একাধিক ম্যাচ হওয়ার কথা।
অনেকে আশঙ্কা করছেন, ক্রিকেটে এই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্ককে পাকিস্তান-ভারত সম্পর্কের মতো স্থবিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
হাআমা/
