কুপার কনোলির দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। শরিফুল ইসলামের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং নৈপুণ্য সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ৩ বল ও ১ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সফরকারী দল। এই জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের পকেটে পুরল অস্ট্রেলিয়া।
আজ মিরপুরে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। প্রথম ওভারেই ওপেনার সৌম্য সরকারকে হারিয়ে চাপে পড়া দলকে কিছুটা টেনে তোলার চেষ্টা করেন তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু তাদের সেই প্রতিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দলীয় ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন চরম সংকটে, তখন দলের হাল ধরেন লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে এই দুই ব্যাটার ৯২ রানের এক চমৎকার পার্টনারশিপ গড়ে দলের বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি করেন। ইনিংসের মাঝপথে চোট পেয়ে লিটন মাঠ ছাড়লেও পরে আবারও ব্যাটিংয়ে ফিরে মিরপুরের মাঠে নিজের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি পূর্ণ করেন। তিনি ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে তাওহীদ হৃদয় খেলেন ৮৩ রানের এক দৃষ্টিনন্দন ইনিংস। শেষ দিকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের দ্রুতগতির অপরাজিত ৫৬ রানের ঝড়ো অর্ধশতকের ওপর ভর করে ৫ উইকেটে ২৭৪ রানের লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
২৭৫ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর চড়াও হয়ে প্রথম চার ওভারেই স্কোরবোর্ডে ৩৮ রান তুলে নেয় সফরকারীরা। ঠিক এই মুহূর্তে বোলিং আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। নিজের প্রথম ওভারেই জশ ইংলিস ও ম্যাট রেনশোকে সাজঘরে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন তিনি। এরপর তাসকিন আহমেদ অভিজ্ঞ ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারিকে আউট করলে ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। তবে স্বাগতিকদের সেই স্বস্তি ও জয়ের আশা একাই ম্লান করে দেন ২২ বছর বয়সী তরুণ ওপেনার কুপার কনোলি। মার্নাস লাবুশেনকে সঙ্গে নিয়ে শুরুতে ৬৪ রানের জুটি গড়েন তিনি। লাবুশেন এক প্রান্ত ধরে ধীরগতিতে খেললেও কনোলি ছিলেন রীতিমতো আগ্রাসী। চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে মাত্র ৫১ বলে নিজের হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।
অর্ধশতকের পর আরও বেশি ভয়ংকর হয়ে ওঠেন এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। লাবুশেন ব্যক্তিগত ইনিংসে বিদায় নিলেও ক্যামেরন গ্রিনকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন কনোলি। ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজের মাত্র ৮৭ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান তিনি। গ্রিন ২৭ রান করে আউট হওয়ার পর শেষ দিকে ১৯ বছর বয়সী অলিভার পিক ২৭ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। কুপার কনোলির ম্যাচজয়ী সেঞ্চুরির কারণেই শেষ ওয়ানডেতে ১ উইকেটের নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে অস্ট্রেলিয়া।
টিএইচএ/
