জামায়াত–ইসলামী আন্দোলনের আসন সমঝোতার সংকট কবে ঘুচছে?

by hsnalmahmud@gmail.com

হাসান আল মাহমুদ >>

জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। উভয় পক্ষই দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও একাধিক শরিক দলের দাবি ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের কারণে ৩০০ আসনের চূড়ান্ত বণ্টন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
banner

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ২৯ ডিসেম্বর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। এই সময়সীমাকে সামনে রেখে জোটভুক্ত দলগুলোর ওপর দ্রুত সমঝোতা চূড়ান্ত করার চাপ বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আলোচনার শুরুতে ইসলামী আন্দোলন শতাধিক আসনের দাবি তোলে। অন্য শরিক দলগুলোর দাবিও ছিল তুলনামূলক বেশি। পরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ নতুন কয়েকটি দল আলোচনায় যুক্ত হলে আসন বণ্টন আরও জটিল হয়ে পড়ে। এতে ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দলের ভেতরে অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

এখনো কিছু আসনে সম্মিলিত জরিপ হয়নি, যেগুলো নিয়ে সমঝোতার কথা ছিল। ফলে আলোচনা ঝুলে আছে এবং সমঝোতা চূড়ান্ত হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান। তিনি বলেন, তাঁদের দল ১৪৩টি আসনে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে থাকলেও সে অনুযায়ী বরাদ্দ মিলছে না। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন—তাঁদের দল কেন জামায়াতের কাছে আসন চাইবে এবং এক বাক্স নীতির আওতায় সমঝোতার যৌক্তিকতা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

ইসলামী আন্দোলনের একাংশের অভিযোগ, জামায়াত এনসিপিকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন দল যুক্ত হওয়ায় আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী যেসব আসনে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর সংখ্যা কমাতে হচ্ছে। এতে দলটির তৃণমূল পর্যায়েও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে জামায়াতের কিছু তৃণমূল নেতাকর্মীর মধ্যেও অসন্তোষের কথা শোনা যাচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আট দলের এক বৈঠকের পর জামায়াত ইসলামী আন্দোলনকে ৩৫ থেকে ৪০টি, এনসিপিকে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১১টি, খেলাফত মজলিসকে ৩টি, এবি পার্টিকে ৩টি, এলডিপিকে ২টি এবং বিডিপিকে ২টি আসন দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এই প্রস্তাবের পর ইসলামী আন্দোলন একপর্যায়ে আলোচনা থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এর জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও সমালোচনা দেখা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামী আন্দোলনের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, শুরু থেকেই জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আসন বণ্টনের কথা বলা হয়েছিল। কোনো দলের প্রার্থী যদি ২০টি আসনে শক্ত অবস্থানে থাকে, তাকে সে অনুযায়ী বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে জামায়াতের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ইসলামী আন্দোলনের ৭০ থেকে ৭৫টি আসনের দাবি বাস্তবসম্মত নয়। তিনি আরও বলেন, ইসলামী দলগুলোকে বিভক্ত রাখার উদ্দেশ্যে বাইরে থেকে ইন্ধন থাকতে পারে বলেও তারা সন্দেহ করছেন।

আট দলের বৈঠকে উপস্থিত ইসলামী আন্দোলনের এক নেতা বলেন, সমঝোতা না হলে ইসলামী ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এ বিষয়ে সবাই একমত। কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।

গতকাল জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমার আগেই সমঝোতা চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, গতকাল দলের অভ্যন্তরীণ বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আলোচনা চলছে। যেহেতু ২০ তারিখ পর্যন্ত সময় আছে, আমরা চাই তার আগেই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে। সব পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আগ্রহী। আশা করছি খুব শিগগির সব দল মিলে একটি চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে পারব।’

সব মিলিয়ে, আসন সমঝোতা নিয়ে সংকট এখনো কাটেনি, তবে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে। আগামী কয়েক দিনেই বোঝা যাবে—এই জটিলতা সমঝোতায় রূপ নেয়, নাকি জোট রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222