ফটিকছড়িতে নিহত জামায়াত কর্মী জামাল উদ্দিনের গলা থেকে মাথা পর্যন্ত ১৩টি গুলির ছিদ্র

by Fatih Work

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিহত জামাল উদ্দিনকে হত্যার ধরন ইঙ্গিত দিচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত টার্গেটেড কিলিং। মোটরসাইকেলে করে এসে খুব কাছ থেকে পিস্তল দিয়ে গুলি চালানো, গলা থেকে মাথা পর্যন্ত ১৩টি গুলির ছিদ্র, হামলার পর মুহূর্তে পালিয়ে যাওয়া- সবকিছু মিলিয়ে তদন্তকারীরা মনে করছেন হত্যাকারীদের লক্ষ্য ছিল শুধু জামালের মৃত্যু নিশ্চিত করা এবং সেটি তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এমন ঘনঘন গুলিবর্ষণ এ এলাকায় আগে দেখা যায়নি। আর এ ধরনের হামলা সাধারণত পেশাদার খুনিরাই করে থাকে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর দিঘিরপাড় এলাকায়।

বিজ্ঞাপন
banner

এলাকাটি দিনের আলোয় কিছুটা ব্যস্ত থাকলেও সন্ধ্যার পর নির্জন হয়ে পড়ে। সেদিনও সন্ধ্যার পরে নিস্তব্ধতার মধ্যেই গ্রিলের পাশে বসে গল্প করছিলেন জামাল উদ্দিন ও তার গ্রামের লোক নাসির উদ্দিন। শহর থেকে আসার পর দুজনেই দিঘিরপাড়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিচ্ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সেই মুহূর্তেই একটি মোটরসাইকেল এসে থামে। তিনজন আরোহী দ্রুত নেমে কোনো কথা না বলেই লক্ষ্যভেদী গুলি চালায়। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ১৩টি গুলি জামালের মাথা ও গলায় লাগে। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, “হামলার ধরন পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে খুব কাছ থেকে পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছে। এতগুলো গুলির ছিদ্র মাথার ওপরের দিকে পাওয়া গেছে, এতে বোঝা যাচ্ছে হামলাকারীরা শুধু কাছেই ছিল না, বরং দ্রুত ধারাবাহিকভাবে গুলি চালিয়েছে।”

নিহত জামাল উদ্দিন লেলাং গ্রামের মুহাম্মদ ইউসুফের ছেলে। তিনি শহরে একটি গার্মেন্টস ব্যবসা পরিচালনা করতেন। স্থানীয়দের অনেকেই তাকে ব্যবসায়ী হিসেবেই চিনতেন। তবে পুলিশ বলছে, ২০০১ সালের তিনটি হত্যা মামলায় তার নাম ছিল। যদিও সেই মামলাগুলো এখনো নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় রয়েছে।

ফটিকছড়ি জামায়াতের নায়েবে আমির ইসমাইল গনি বলেন, “জামাল ছিলেন তাদের সক্রিয় কর্মী। তিনি মনে করেন, এই হত্যা পরিকল্পিত এবং এর পেছনে সুগভীর উদ্দেশ্য আছে।” তিনি বলেন, “এমন নৃশংস হামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ।”
তাদের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্যও মিলছে একই ধরনের। লেলাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সারোয়ার হোসেন বলেন, “হামলাকারীরা অত্যন্ত সংগঠিত ছিল। অন্ধকারে এসে মুহূর্তের মধ্যে গুলি করে চলে যায়।”

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের গ্রামের লোকজন সন্ধ্যার পর বাইরে বের হওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা শোকে ভেঙে পড়েছেন। তারা জানান, জামাল কারো সঙ্গে এমন বিরোধে জড়িত ছিলেন না যে তাকে এতটা নির্মমভাবে হত্যা করা হবে।

পুলিশ বলছে, তারা হত্যাকারীদের শনাক্তের খুব কাছাকাছি এবং অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রেপ্তার সম্ভব।

এমএআর/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222