ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ‘অসুস্থ ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসানের ডাক দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের ঘটনার জন্য খামেনি সরাসরি ট্রাম্পকে দায়ী করার পর এই কড়া পাল্টাপাল্টি মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘পলিটিকো’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইরানের জন্য এখন নতুন নেতৃত্ব খুঁজে নেওয়ার উপযুক্ত সময় এসেছে।
সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী কেবল দমন-পীড়ন ও সহিংসতার ওপর ভিত্তি করেই ক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে খামেনি ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ আখ্যা দিয়ে ইরানে বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। খামেনির সেই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, “একজন দেশনেতা হিসেবে খামেনির আসল অপরাধ হলো পুরো দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া এবং ইতিহাসের নজিরবিহীন পাশবিকতা প্রদর্শন করা।”
ট্রাম্প খামেনির শাসনশৈলীকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “নেতৃত্ব মানে সম্মান অর্জন করা, ভয় বা মৃত্যুর রাজনীতি নয়। একজন নেতার উচিত নিজের দেশ সঠিকভাবে পরিচালনা করা, যা আমি যুক্তরাষ্ট্রে করে আসছি।”
খামেনিকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এই ব্যক্তি মানসিকভাবে অসুস্থ এবং তাঁর দুর্বল নেতৃত্বের কারণে ইরান আজ বিশ্বের অন্যতম নিকৃষ্ট বাসযোগ্য দেশে পরিণত হয়েছে। ইরানের সাধারণ মানুষের ওপর সহিংসতা বন্ধ করে দেশ পরিচালনায় মনোযোগ দিতে খামেনির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ইরানে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অসংখ্য নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। ট্রাম্পের এই সরাসরি শাসন পরিবর্তনের ডাক মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
টিএইচএ/৩৬ নিউজ
