দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটই বন্ধ হয়ে গেছে। বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়াসহ যান্ত্রিক ত্রুটিতে ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন বন্ধ, রংপুর বিভাগে বিদ্যুৎ সংকটের আশঙ্কা।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটের বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ৫২৫ মেগাওয়াট সম্পন্ন তিনটি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রংপুর বিভাগে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক এসব বিষয় নিশ্চিত করেন।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বককর সিদ্দিক জানান, “সকালে প্রথম ইউনিটের বয়লারের পুরো টিউব ফেটে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।”
গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। ১৫ দিন পর গত ১৪ জানুয়ারি আবারও উৎপাদনে ফেরে এটি। কিন্তু চারদিন পরই ইউনিটটি আবারও বন্ধ হয়ে গেল। ফলে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন পুরোপুরি বন্ধ।
প্রধান প্রকৌশলী আরও জানান, “প্রায় ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বয়লারটি ঠাণ্ডা হওয়ার পর এর মেরামতকাজ শুরু হবে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আবার কবে উৎপাদনে ফিরবে তা এখন বলা যাচ্ছে না। এবার উৎপাদনে ফিরতে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হবে। প্রথম ইউনিটটি অনেক পুরোনো। প্রতি পাঁচ বছর পরপর মেরামত করতে হয়। তবে সবশেষ মেরামতের পর এরইমধ্যে ২০ বছর হয়ে গেছে।”
দেশের অন্যতম কয়লাভিত্তিক দিনাজপুরের পার্বতীপুর বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ আছে। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটিও ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ।
আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, “বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পরিচালিত বড়পুকুরিয়া খনির কয়লার ওপর নির্ভর করে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রম। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতে কাজ করছে। চীন থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পৌঁছালে আবার তৃতীয় ইউনিটে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।”
প্রধান প্রকৌশল আরও বলেন, “আশা করছি, আগামী মার্চে এটি উৎপাদনে ফিরতে পারে। আর দ্বিতীয় ইউনিটির যন্ত্রাংশ দাম বাড়ার অজুহাতে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গড়িমসি করছে।”
এমএআর/
