ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার সাধারণ মানুষের নজিরবিহীন ধৈর্য ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি তাদের অবিচল আস্থা বিশ্বজুড়ে ভিন্ন এক জাগরণ তৈরি করছে। সেই অটল বিশ্বাসের আলোকচ্ছটায় অনুপ্রাণিত হয়ে এবার ইসলামের শীতল ছায়াতলে এসেছেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু চিকিৎসা বিভাগের বিশ্বখ্যাত অধ্যাপক ও স্টেম সেল গবেষক ডা. হেনরি ক্লাসেন।
গত ১৫ মার্চ ২০২৪ তারিখে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পবিত্র ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করেন বলে নিশ্চিত করেছে ইসলাম গ্রহণকারীদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম ‘রাহইয়াফতেহা’।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় ডা. হেনরি ক্লাসেন এক অনন্য নাম। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্বসেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারী এই বিজ্ঞানী একাধারে এমডি এবং পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। রেটিনা পুনর্গঠন এবং স্টেম সেল গবেষণায় তাকে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বর্তমানে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইরিশ সেন্টার ফর রেটিনাল ডিজেনারেশনে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে গাজার ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে তিনি সেখানকার মানুষের জীবনদর্শনকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। যুদ্ধের নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও গাজাবাসীর মুখে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং তাদের অবিশ্বাস্য ঈমানী শক্তি এই বিজ্ঞানীকে নতুন করে সত্য অনুসন্ধানে উদ্বুদ্ধ করে। মূলত এই অপার্থিব ধৈর্যের উৎস খুঁজতে গিয়েই তিনি ইসলামের সৌন্দর্যে বিমোহিত হন এবং শেষ পর্যন্ত এই ধর্মকেই নিজের জীবনের ধ্রুবতারা হিসেবে বেছে নেন।
অধ্যাপক ক্লাসেনের সমসাময়িক সময়ে ইসলামের পথে পা বাড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত লেখক ও মানবাধিকার কর্মী জেফ্রি শন কিং। পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে টেক্সাসের একটি মসজিদে সস্ত্রীক উপস্থিত হয়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। শন কিং জানান, গাজায় চলমান নৃশংসতার বিরুদ্ধে সেখানকার মানুষের যে বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাদের অবিচল মনোবল, তা তাকে ইসলামের প্রতি গভীরভাবে কৌতূহলী করে তোলে। গাজার মানুষের ঈমান তাকে শিখিয়েছে কীভাবে কঠিনতম সংকটেও সত্য ও ন্যায়ের ওপর অটল থাকতে হয়।
টিএইচএ/
