ইরানের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান স্নায়ুযুদ্ধের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক শক্তির ব্যাপক মহড়া শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানকে নতুন একটি পরমাণু চুক্তিতে বাধ্য করতে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ ওই অঞ্চলে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হোয়াইট হাউজ।
শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই নির্দেশের কথা প্রকাশ্যে আসে। বর্তমানে আরব সাগরে অবস্থানরত ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ রণতরির সঙ্গে এই বিশালাকার যুদ্ধজাহাজটি যুক্ত হলে ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোহিত সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার সরাসরি ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে তেহরানকে ‘খুবই যন্ত্রণাদায়ক’ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। সম্প্রতি ওমানে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার পর ট্রাম্প এক মাসের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তেহরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি বন্ধ এবং হামাস-হিজবুল্লাহর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের কঠিন শর্তগুলো চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে ট্রাম্পের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছেন।
এদিকে, বৈশ্বিক এই উত্তেজনার মাঝে ইরান এখন অভ্যন্তরীণ চরম সংকটে জর্জরিত। গত মাসের বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হাজারো মানুষের স্মরণে দেশটিতে ৪০ দিনের শোক পালন শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে থাকা সাধারণ মানুষ শোকাতুর হয়ে রাজপথে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে নিজেদের সংহতি জানাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি অঞ্চলটিকে ফের বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো। লোহিত সাগর এলাকায় যুদ্ধের দামামা আর দীর্ঘ আট মাস ধরে সমুদ্রে থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর ক্রুদের ক্লান্তি।
টিএইচএ/
