আব্দুল্লাহ কাসিম আজওয়াদ >>
নড়াইলের সিংগাশোলপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক বৃদ্ধ ও তাঁর ছেলেসহ চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে বড়কুলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে তিনজন খলিল গ্রুপের এবং একজন প্রতিপক্ষ খায়ের গ্রুপের সদস্য বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে নড়াইল জেলার সদর উপজেলার সিংগাশোলপুর ইউনিয়নে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্লা এবং বিএনপি-সমর্থিত নেতা খলিল মোল্লার অনুসারীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি প্রতিপক্ষের এলাকায় ফের সক্রিয়তা বাড়ায় উত্তেজনা চরমে ওঠে এবং তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
নিহতরা হলেন—রহমান খলিল, তাঁর ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন, ফেরদৌস হোসেন এবং আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যাওয়া ওসিবুর মিয়া।
পুলিশের অবস্থান
নড়াইল সদর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ ও উদ্বেগ
ঘটনার পর বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন।
নড়াইলের বিএনপি নেতা রফিকুল বাশার সুমন লিখেছেন, “ক্ষমতার পালাবদল হলেও মাঠের বাস্তবতা বদলায়নি। তৃণমূলের কর্মীরাই বারবার রক্ত দিচ্ছে। আমাদের সংগঠিত ও সতর্ক থাকতে হবে।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিএনপির ছাত্র নেতা আবির ইসলাম তার পোস্টে উল্লেখ করেন, “রাজনৈতিক সহাবস্থান চাই, কিন্তু একতরফা হামলা ও সন্ত্রাসের মধ্যে তা সম্ভব নয়। তৃণমূলকে নিরাপত্তা দিতে হবে।”
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হুসাইন জাকির লেখেন, “আরো অনেক আসবে! নেতাদের তো সমস্যা না—আমরা যারা ঘরে বাইরে নিরাপদ নই, তাদের জন্যই সবচেয়ে বেশি শঙ্কা।”
ফুয়াদ নামে এক বিএনপি সমর্থক তার পোস্টে বলেন, “রাজনীতি করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিতে হবে—এটা কখনো স্বাভাবিক হতে পারে না।”
বিশ্লেষকের সতর্কবার্তা
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মঈন মুসতাকিম বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থানীয় আধিপত্যের দ্বন্দ্ব প্রায়ই বড় রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নেয়। অতীতে শহিদ ওসমান হাদি বলেছিলেন—আওয়ামী লীগ এমন একটি দল, যে তার প্রতি সামান্য ভালোবাসা দেখালেও শেষ পর্যন্ত তাকে আঘাত করতে পারে। বিএনপির ভেতরে যারা অতিরিক্ত সমঝোতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী, তাদের জন্য এটি সতর্কবার্তা।”
তিনি আরও বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে এবং যার ফলে দেশ তারেক রহমানের মতো নেতৃত্ব পেয়েছে—সেই বাস্তবতাকে ধারণ করে এগোতে না পারলে ভবিষ্যতে বড় মূল্য দিতে হতে পারে। দলকে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় কৌশলগতভাবে কঠোর ও সংগঠিত হতে হবে।”
তৃণমূলে অস্থিরতা
স্থানীয় সূত্র বলছে, এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আধিপত্যের দ্বন্দ্বে সাধারণ কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি অব্যাহত থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে নিরাপত্তা ও সহাবস্থানের প্রশ্নে শঙ্কা কাটছে না। রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
হাআমা/
